ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট লইয়া উদ্বেগ

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২১:৪৪

দেড় বত্সরাধিক কাল ধরিয়া করোনা ভাইরাস সমগ্র বিশ্বকে শুধু সংক্রমিত করিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই, ইহার বিভিন্ন ধরন বা ভ্যারিয়েন্ট সমগ্র বিশ্বকে নাস্তানাবুদ করিয়া তুলিয়াছে। প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট, ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্ট, ইউকে ভ্যারিয়েন্টসহ নানান ধরনের ভ্যারিয়েন্টের সন্ধান পাওয়া যায়। সেই সকল ভ্যারিয়েন্টের চরিত্র কী, তাহা কতটা প্রাণঘাতী—সেই সকল বিষয়ে চিকিত্সা বিজ্ঞানীরা সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র বিশ্বকে জানাইয়াছে। তাহার কিছু কিছু ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশেও প্রবেশ করিয়াছিল; কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশকে যে নূতন ধরন কাঁপাইয়া তুলিয়াছে তাহা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বলিয়া পরিচিতি লাভ করিয়াছে, যদিও এই ভ্যারিয়েন্টের নামকরণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দিয়াছে ‘ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট’। দুর্ভাগ্যজনক হইল, করোনার এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ শক্তি অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের চাইতে অধিক এবং বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে ইহার প্রকোপ দেখা দিয়াছে মাত্রাতিরিক্ত হারে। যাহার ফলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা কিরতে বাধ্য হইয়াছে। রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউশন এবং ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেল্থ ইনিশিয়েটিভ যৌথ গবেষণায় জানাইয়াছে, দেশে বর্তমান সংক্রমণের ৮০ শতাংশই ভারতীয় বা ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট এবং তাহা সীমান্ত এলাকা ছাড়িয়া সমগ্র দেশে ছড়াইয়া পড়িতেছে। তাহারা ৫০টি নমুনার জেনম পরীক্ষা করিয়া ৪০টিতেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট দেখিতে পাইয়াছেন। ইহার সহিত কমিউনিটি ট্রান্সমিশিনও ঘটিতেছে দ্রুত। অধিকন্তু একটি নূতন ধরনও তাহারা শনাক্ত করিয়াছেন যাহা সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায় নাই।

নূতন নূতন ধরন এবং কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন লইয়াও আমরা শুরু হইতেই নানা ধরনের তথ্য পাইয়া আসিতেছি। কোন ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর, কোন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কতদিন থাকিবে ইত্যাকার অনেক তথ্যই আমাদিগকে ধন্ধে ফালাইয়া দিয়াছে। সুতরাং শতভাগ নিশ্চয়তা এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন হইতেই পাওয়া যায় নাই। তবে ইহা বলা যাইতে পারে, ভ্যাকসিনেশনের ফলে এবং ভ্যাকসিনের আশাব্যঞ্জক খবরাখবরে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি বাড়িয়াছে, যাহা খানিকটা হইলেও মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াইয়া দিয়াছে। ইহা চিকিত্সাবিজ্ঞানেও স্বীকৃত একটি বিষয় যে, মানুষের আত্মবিশ্বাস শরীরে ইম্যুনিটি তৈরিতে যথেষ্ট সাহায্য করিয়া থাকে। আত্মবিশ্বাস কেবল রোগ প্রতিরোধ বা রোগমুক্তির ক্ষেত্রেই নহে, যাপিত জীবনের নানা ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল দিয়া থাকে। এই আত্মবিশ্বাস আরো কার্যকরী হইয়া উঠে ইমানের জোর থাকিলে। ইমানের সঙ্গে কোনো ইচ্ছা পোষণ করিলে তাহা কার্যকর না হইয়া পারে না। এই জন্য ইসলামে ইমানের উপর যথেষ্ট জোর দেওয়া হইয়াছে। তবে ইহাও মনে রাখা দরকার, ইমান আনয়ন এক কঠিন কাজ যাহা মুখে বলিলেই শুধু হয় না। এই জন্যই সুরা আনকাবুত-এ ইরশাদ হইয়াছে, “মানুষ কি মনে করে যে ‘ইমান আনিয়াছি’ এই কথা বলিলেই তাহাদের পরীক্ষা না করিয়া ছাড়িয়া দেওয়া হইবে? আমি তো তাহাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করিয়াছিলাম; আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করিয়া দিবেন কাহারা সত্যবাদী এবং প্রকাশ করিয়া দিবেন কাহারা মিথ্যাবাদী।” অতএব এই রোগবালাইর ক্ষেত্রেও মনে দৃঢ় বিশ্বাস রাখিতে হইবে, সকল ইচ্ছাই একমাত্র আল্লাহ তালার। তিনি রোগবালাই দিয়া পরীক্ষা করিতে পারেন, আবার মানুষকে রোগমুক্তির পথও তিনিই দেখাইতে পারেন। এই ইমান লইয়া দৃঢ় থাকিলে নিশ্চয়ই জাতি এই বালাই হইতে দ্রুত পরিত্রাণ পাইতে পারে। শুধু একটা প্রশ্নই সামনে থাকিয়া যাইবে : আমরা কি যথাযথ ইমান রাখিতে পারিতেছি কি না।