একজন ছাত্র জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলে আগামীর জন্য। দেশের নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দেয়। জাতি গঠনের জন্য মানুষকে নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা জরুরি, আর এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা এবং সুন্দর, সুখী ও সমৃদ্ধশালী আদর্শ সমাজ বিনির্মাণ করতে পারবে কেবল ছাত্রসমাজই। এজন্যই একটি আদর্শ সমাজ গঠনে ছাত্রসমাজের গুরুত্ব অপরিসীম। ছাত্রসমাজ যে কোনো অধিকার আদায়ে সচেষ্ট। যার চিত্র আমরা দেখতে পাই ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সংগ্রাম, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণে। ছাত্রসমাজের উচিত আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের পূর্বে নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা। যেখানে প্রধান ভূমিকা থাকবে ছাত্রের পরিবারের। কারণ একজন ছাত্র মানবিকতা এবং মনুষ্যত্ববোধ শেখা শুরু করে তার পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত পরিবেশে একজন ছাত্র শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় পরিবার থেকে শিখে আসা ভিত্তিগুলোকে মজবুত করবে এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগের দীক্ষা গ্রহণ করবে। সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে একজন ছাত্রের প্রথম কাজ হবে নিজেকে জ্ঞানী, ন্যায়পরায়ণ, সত্ চরিত্রবান ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। কথায় আছে, পৃথিবীকে গড়তে হলে, সবার আগে নিজেকে গড়ো। দ্বিতীয়ত, দেশ এবং সমাজের সব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে। তৃতীয়ত, ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে নিজের মধ্যে প্রতিবাদী মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে এবং শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মানসিকতা তৈরি করে নিতে হবে। চতুর্থতম, সবার মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রবাদ আছে ‘দশের লাঠি, একের বোঝা’। কোনো অপশক্তিই ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসমাজের চলার পথ অবরুদ্ধ করে রাখতে সক্ষম হবে না।
ছাত্রসমাজ জাতির চালিকাশক্তি। ছাত্রসমাজকে রুখে দিতে হবে সব অন্যায়-অত্যাচার। জাতির ক্রান্তিলগ্নে তাদের হাতে নিতে হবে আগামীর আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের গুরুদায়িত্ব। সমাজে মাথা তুলে বেঁচে থাকার অধিকার, জুলুম-অত্যাচারে জর্জরিত সমাজে সুস্থ সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার নিতে হবে তাদেরকে। দেশবাসীকে দেশপ্রেম, স্বার্থত্যাগ ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জনে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ছাত্রসমাজকে। মনে রাখতে হবে এই ছাত্রসমাজই স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করে দিয়েছিল। আগামীর আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের দুয়ার খুলে যাক ছাত্রসমাজের হাত ধরেই। বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশ নতুনভাবে প্রস্ফুটিত হোক এবং ছাত্রসমাজের আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জন সূচিত হোক, যে অর্জনটি হবে দেশ ও সমাজের সব প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলায়।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
