যাত্রী সেজে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার ভাড়া করার পর গন্তব্যের কাছে আসতেই আসল চেহারা বেরিয়ে আসে তাদের, অস্ত্রের মুখে চালককে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে গাড়ি ছিনতাই করে তারা। এমন একটি চক্রের ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হয়েছে মীর মিজান মিয়া, মো. হাবিব মিয়া, মো. ফারুক, কামাল মিয়া, মো. আল আমিন ও মোবারক হোসেন। গতকাল শনিবার গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার নরসিংদী ও কুমিল্লার একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করেন ডিবির কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, উত্তরা পূর্ব থানায় দস্যুতা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে একটি চক্র আছে, যারা কৌশলে প্রাইভেট কার ভাগিয়ে নেয়। পরে অল্প দামে বিদেশ থেকে কয়েক মাসের জন্য দেশে ঘুরতে আসা ব্যক্তিদের কাছে ঐ সব গাড়ি বিক্রি করে দিচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে হাবিব মিয়াকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত ২১ এপ্রিল গ্রেপ্তার হাবিব মিয়া তার বিদেশফেরত এক আত্মীয়কে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আনার কথা বলে কিশোরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি হায়েস মাইক্রোবাস ভাড়া করেন। পরদিন ২২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাইক্রোবাসের চালক আবুল বাশার গ্রেপ্তার হাবিবের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী করিমগঞ্জ থানা এলাকা থেকে চার জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এই মাইক্রোবাস ছিনতাই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরো বলেন, ঐ দিন রাত আনুমানিক ১১টায় তাদের বহন করা মাইক্রোবাসটি ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা যাত্রীবেশে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা লুঙ্গি, গামছা ও দড়ি দিয়ে মাইক্রোবাসচালকের হাত-পা বেঁধে ফেলে মাইক্রোবাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। এরপর ফারুক মাইক্রোবাসটি চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার গাউছিয়া নরিকান্দী রোডে নিয়ে যায়। এরপর মাইক্রোবাসের চালক বাশারকে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তার মধ্যে ফেলে দিয়ে সোনারগাঁওয়ের দিকে চলে যায়।
এরপর হাবিব গাড়িটি চালিয়ে কুমিল্লার চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিয়ে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত তাদের আরেক সহযোগী মিজানের কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। এরপর মিজান ভুয়া নম্বর প্লেট ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ার বিনিময়ে ঐ গাড়ি চালাতেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তা হাফিজ জানান, চক্রটি এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ গাড়ি চুরি করেছে, তার তদন্ত চলছে। তবে তারা জানিয়েছে, ছিনতাই করা প্রাইভেট কারগুলো তারা সিলেটে বেশি বিক্রি করেছে। কারণ সিলেটে বিদেশফেরত বহু দেশি নাগরিক আসেন। ঐ প্রবাসীরা কয়েক মাস ব্যবহারের জন্য অল্প দামে গাড়ি কিনতে চান। এই চক্র ঐ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছিল। তিনি আরো বলেন, চক্রটি এত দিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গ্রামের বিভিন্ন সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে অব্যবহূত সিম কিনে ব্যবহার করত। তারা মনে করত, সেসব সিম ব্যবহার করলে তাদের ধরা যাবে না।
