প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২২:২৫

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ

পাঁচ বছরের জন্য ০.৫ শতাংশ উেস কর অব্যাহত রাখার

আহ্বান

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও সার্বিক বিবেচনায় তা অবাস্তব নয় বলে মনে করে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তবে বাজেটে বিজিএমইএর বেশ কিছু প্রস্তাব ছিল, যা শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানো ও কর্মসংস্থানের জন্য অপরিহার্য, তার প্রতিফলন হয়নি। গতকাল শনিবার বিজিএমইএর উত্তরা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। এ সময় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম মান্নান কচি, ভাইস প্রেসিডেন্ট শহিদুল্লাহ আজিম, নাসির উদ্দিন, খন্দকার রফিকুল ইসলাম, রাকিবুল ইসলামসহ বোর্ডের পরিচালক ও কর্মকর্তারা।

বিদ্যমান শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ উত্স কর আগামী পাঁচ বছরের জন্য অব্যাহত রাখার জন্য সংবাদ সম্মেলনে আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘উেস করে পরিবর্তন এলে ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উত্স করের কোনো হারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। সুতরাং আমরা বিদ্যমান শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ উেস কর অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছি। দীর্ঘমেয়াদী ব্যাবসায়িক পরিকল্পনার জন্য উেস কর একই থাকা ভালো বলে মনে করেন তিনি। তিনি নন-কটন ফাইবার থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ব বাজারের ৭৮ শতাংশ কৃত্রিম ফাইবারের পোশাক হলেও, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৪ দশমিক ১৪ শতাংশ সুতা থেকে তৈরি পোশাক থেকে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে ফারুক হাসান বলেন, সংকটময় মুহূর্তে আমরা প্রথমত বাজেটে নগদ সহায়তার ওপর আরোপ করা ১০ শতাংশ কর প্রত্যাহারের অনুরোধটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করছি। ফারুক হাসান বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো—ক্যাশ-ফ্লো ম্যানেজ করা, যেটি করতে না পেরে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। কর কিছুটা কমলে আমাদের ক্যাশ-ফ্লোতে একটু স্বস্তি আসবে। কারখানা টিকলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন গতি আসবে। আর পোশাক শিল্প ঘুরে দাঁড়ালে অর্থনীতির বৃহত্ পরিসরে পণ্য ও সেবার লেনদেন বৃদ্ধি পাবে। যেমন—হোটেল, পর্যটন, ব্যাংক, বীমা, প্রসাধনী ইত্যাদি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে সরকারের আয় বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বেশকিছু রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা রুগ্ন এবং বন্ধ হয়ে গেছে। রুগ্ন পোশাক কারখানার মালিকদের সার্বিক অবস্থা খুবই করুণ এবং তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদের মধ্যে আবার অনেকেই নীতি সহায়তা পেলে পুনরায় উত্পাদনে ফিরে আসতে পারেন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে ঋণ পরিশোধ করে ব্যবসা থেকে প্রস্থান করা অসম্ভব। এসব রুগ্ন কারখানা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল ঋণ, সুদ ও মামলা খরচ বাবদ সমুদয় অর্থ অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করলে তারা পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে পোশাক খাতের জন্য কর ও অন্যান্য নীতিমালার কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, ফলে উেস কর, কর্পোরেট ট্যাক্স এবং প্রচলিত সব নগদ সহায়তা চলমান থাকবে। এটি বাজেটের ইতিবাচক দিক।