করোনা রোগী বাড়লেও কড়াকড়ি নেই সীমান্তে!

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ২২:৪৫

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়লেও জেলা দুটির অরক্ষিত সীমান্তপথ দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধভাবে কাজে যাওয়া শ্রমিকেরা প্রায় বিনা বাধায় দেশে ঢুকছেন। গতকাল শনিবারও রাজশাহীর পবা উপজেলার চরমাজারদিয়াড়, খানপুরসহ চারঘাট ও গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। স্থানীয়রা এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।  এতে ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোরে করোনা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঐ সব শ্রমিকের বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ অথবা কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কয়েক দফা চেষ্টা করেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, করোনার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চাঁপাইবাবগঞ্জে দুই সপ্তাহের আঞ্চলিক লকডাউন চলছে। সীমান্তবর্তী এই জেলায় শনাক্ত করোনা রোগীদের ৯৩ শতাংশই ভারতীয় ধরন বহন করছে। এ কারণে ঝুঁকিতে থাকা নওগাঁয়ও আঞ্চলিক লকডাউন শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে সন্ধ্যাকালীন জমায়েত ও চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তার পরও এসব জেলায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না, সংক্রমণ বাড়ছেই।

আরও আট মৃত্যু

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে করোনা ও উপসর্গে আরো আট জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত তাদের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃতদের মধ্যে চার জন পজিটিভ ও বাকিদের উপসর্গ ছিল। তাদের পাঁচ জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের এবং তিন জন রাজশাহীর বাসিন্দা। গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনা ওয়ার্ডে ২২৪ জন রোগী চিকিত্সাধীন ছিলেন। নতুন ভর্তি হয়েছেন আরো ১৬ জন। প্রসঙ্গত, ২৪ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে রামেক হাসপাতালে করোনা ও এর উপসর্গে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৬১ জনের করোনা পজিটিভ ছিল। এছাড়া এক দিনে সর্বোচ্চ ১৬ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালে আরেকটি ওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল শনিবার হাসপাতালটিতে করোনার চিকিত্সায় মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়াল ৯টি। ফলে শয্যাসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৪। তবে করোনা ওয়ার্ড বাড়লেও রোগীর চাপে শয্যার সংকট কাটছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চিকিত্সকেরা বলছেন, সব করোনা রোগীকে ভর্তি করা হচ্ছে না। শুধু অক্সিজেনের স্যাচুরেশন যাদের কম, কেবল তারাই ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন।

হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, রাজশাহীতে আর কোনো হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ নেই। খুলনা বিভাগের রোগীরাও এখানে আসছেন। তাই জায়গার সংকুলানই বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি স্বীকার করেন, শয্যা ও ওয়ার্ড বাড়লেও সংকুচিত হচ্ছে অক্সিজেনসহ অন্যান্য সেবা। তাই সদর হাসপাতাল চালু করা গেলে হাসপাতালের কয়েকটি ওয়ার্ড সেখানে স্থানান্তর করা যাবে। তখন করোনা ওয়ার্ড আরো বাড়ানো যাবে।