ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন করে আরো একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়া হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ এখনো দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসব। এখন ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য আমরা আরো একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। গতকাল শনিবার মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের ব্যবসায়ীরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে চান কিন্তু পদ্ধতিটা সহজ হওয়া উচিত।
কালোটাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢালাওভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেওয়া উচিত। এটা সব সময়ের জন্য দেওয়া হলে যারা নিয়মিত ভ্যাট দেন তারা নিরুত্সাহিত হবেন। সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি বাজেটে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে অগ্রিম আয়কর (এআইটি), আগাম কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। তিনি বলেন, অগ্রিম আয়কর (এটিআই) বেআইনি। এফবিসিসিআই থেকে বিদ্যমান পাঁচ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছিল। অথচ বাজেটে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, সর্বমোট প্রাপ্তি ৩ কোটি টাকা বা ততোধিক হলে ব্যক্তি আয়করদাতাদের ন্যূনতম কর হার দশমিক ৫০ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম কর হার দশমিক ২৫ করার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশের জনগণের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দেশের অর্থনীতির পরিকাঠামো বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাজেটের আকারও প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবায়নের চিরায়ত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে—সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, বিনিয়োগ ও উত্পাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায়। এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনিক এবং নির্বাহী দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তদারকির মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমানসহ এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দগণ উপস্থিত ছিলেন।
