ভয়ংকর কিশোর গ্যাং ‘ডি কোম্পানি’

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ২১:১৬

প্রধান পৃষ্ঠপোষক বাপ্পীসহ আটক ১২   বিদেশি অস্ত্র, চাপাতি ও রড উদ্ধার

ইত্তেফাক রিপোর্ট 

ভয়ংকর কিশোর গ্যাং ডেয়ারিং কোম্পানির (‘ডি কোম্পানি’) প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাজিব চৌধুরী বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পীসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ সদস্যরা। গত শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি চাপাতি, দুইটি রামদা, তিনটি লোহার রড ও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

সম্প্রতি টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন আরিচপুর এলাকায় দুইটি ঘটনায় নৃশংসভাবে হামলা চালিয়েছে এই ‘ডি কোম্পানি’র সদস্যরা। এই গ্যাংয়ের উদ্দেশ্য ছিল হামলা, ভাঙচুর, মারামারি এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটিয়ে পুরো টঙ্গী নিয়ন্ত্রণ করা। গতকাল বিকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এসময় উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম। 

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এই গ্যাংয়ের গ্রেফতার অন্যতম আরেক সদস্য মইন আহমেদ নীরব ওরফে ডন নীরব ও রাজিব আহমেদ নীরব ওরফে টম নীরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে দুই শতাধিক কিশোরকে সক্রিয় রাখত। গ্রেফতারকৃত অন্যরা হলো—মো. তানভীর হোসেন ওরফে ব্যাটারি তানভীর, মো. পারভেজ ওরফে ছোট পারভেজ, মো. তুহিন ওরফে তারকাটা তুহিন, মো. সাইফুর ইসলাম শাওন, মো. রবিউল হাসান, মো. শাকিল ওরফে বাঘা শাকিল, মো. ইয়াসিন আরাফাত ওরফে বিস্কুট ইয়াছিন, মো. মাহফুজুর রহমান ফাহিম ও ইয়াছিন মিয়া ওরফে ইয়াছিন।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ১ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘ডি কোম্পানি’র  সদস্যরা টঙ্গীর পূর্ব থানাধীন আরিচপুর এলাকার ভুঁইয়াপাড়া জামে মসজিদের সামনে মো. তুহিন আহমেদ এবং তুষার আহমেদকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় পরের দিন তুহিন আহমেদ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরপরই র্যাব তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করে। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা মাদক সেবন, স্কুল-কলেজে বুলিং, র্যাগিং, ইভটিজিং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লিল ভিডিও শেয়ারসহ নানাবিধ অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

র্যাব সূত্র জানান, এই গ্রুপের প্রধান রাজিব চৌধুরী বাপ্পী এর আগেও অস্ত্রসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। এছাড়াও একটি অপহরণ মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি সে জামিনে বেরিয়ে ফের বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তার ভাই পাপ্পু ওরফে লন্ডন পাপ্পু এক সময় লন্ডনে ছিল। লন্ডন থেকে ফিরে এলাকায় মাদক কারবার, মারামারি, হত্যাচেষ্টা ও বিভিন্ন অপরাধে সে এখন কারাগারে রয়েছে। জামিনে বেরিয়ে সে ফের বেপরোয়া হওয়ার পরিকল্পনা করছে। এজন্য ‘ডি কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠিত করে পুরো টঙ্গী নিয়ন্ত্রণ করবে। এমনকি দুইটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটাবে বলে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছে। এজন্য তার ভাই বাপ্পী অস্ত্র মজুত রেখেছে।

ঐ সূত্র আরো জানায়, ‘ডি কোম্পানি’সহ টঙ্গীতে আরো কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পেয়েছেন তারা। একেক গ্রুপ মারামারি, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত রয়েছে। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই গ্রুপে আরো যারা সক্রিয় :র্যাব সূত্র জানায়, ‘ডি কোম্পানি’র সঙ্গে আরো দুই শতাধিক কিশোর জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে র্যাব। এর মধ্যে রয়েছে টঙ্গীর বনমালা রোডের জুয়েল মাহমুদ পারভেজ, টঙ্গী বাজারের সাগর, জিল্লুর, শিহাব, আমান, ছোট রিমন তার ভাই রিফাত, জয়, মিম, মইন, জিল্লু। এছাড়াও কিশোর গ্যাংয়ের আরেকটি গ্রুপ—টঙ্গীর মরকুন গোদারাঘাট এলাকার আসাদ শিকদারের নেতৃত্বে রয়েছে রাব্বি, রিফাত, রাকিব, হাবিবসহ অর্ধশতাধিক।

জাবিতে কিশোর গ্যাংয়ের

দুই পক্ষের সংঘর্ষ

জাবি সংবাদদাতা জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের কিল-ঘুসিতে রুদ্র নামে এক স্কুলছাত্র আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার কিশোর গ্যাং ও রাঙামাটি এলাকার ‘রাইডারবিডি ০০৭’ গ্যাংয়ের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘রাইডারবিডি ০০৭’ গ্যাংয়ের সদস্য রুদ্রের সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি তাদের সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় ঐ ছাত্রী ইসলামনগর গ্যাংয়ের সদস্য রাতুলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুদ্র কয়েক বার রাতুলকে থ্রেট করে। ঐ ঘটনার জেরে আজকে দুই জনের মধ্যে ফের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় রাতুল ও তার সঙ্গে থাকা কয়েক জন মিলে রুদ্রকে মারধর করে। পরে ঘটনাটি দুই গ্যাংয়ের সংঘর্ষে রূপ নেয়।