ইত্তেফাক রিপোর্ট
প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্ট খাতে যে কর-সুবিধাটুকু দেওয়া হয়েছে, তার প্রভাব খুবই সামান্য বিধায় এই শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে আরোপিত অসমন্বয়যোগ্য অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছেন সিমেন্টশিল্পের মালিকেরা। পাশাপাশি সিমেন্টের সরবরাহ পর্যায়ে আরোপিত উেস করও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা।
সিমেন্টশিল্পের কথা চিন্তা করে যদিও বাজেট প্রস্তাবনায় সিমেন্ট উত্পাদনে ব্যবহূত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে অগ্রিম করের হার ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু এটি বরাবরের মতোই অসমন্বয়যোগ্য বা চূড়ান্ত করদায় হিসেবেই রাখা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। শিল্পমালিকেরা চান সম্পূর্ণ প্রত্যাহার। একান্তই যদি না হয়, তাহলে নিদেনপক্ষে যাতে এটি সমন্বয়যোগ্য করা হয়।
পাশাপাশি সিমেন্ট সরবরাহে উেস কর কর্তনের হারও যেটা ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সেটিও সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছে শিল্পমালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিসিএমএ।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মো. আলমগীর বলেন, ‘কোনো একটা খাতের জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত অহেতুক চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ আমরা পূর্ব থেকেই কেউ বলতে পারি না কোন খাত কত মুনাফা করবে। এটা দেশের অর্থনীতি, বাজারব্যবস্থা, চাহিদা এবং সর্বোপরি উত্পাদনকারীদের প্রতিযোগিতার মধ্যে নির্ভর করে। তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানি যেটাই হোক না কেন, সরকারনির্ধারিত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরীক্ষা (অডিট) হওয়ার পর আর্থিক প্রতিবেদন বা লাভ-লোকসান নির্ধারিত হয়। সেখানে কোনো ব্যতিক্রম করার সুযোগ থাকে না। তার পরেও সরকার যদি মনে করে অগ্রিম আয়কর দেওয়া উচিত, তাতে আমাদের কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু যে আয়কর নেওয়া হবে, সেটা কোনোভাবেই চূড়ান্ত দায় হওয়া উচিত নয়। তাই আমাদের দাবি হলো যে আমদানিস্থলে অগ্রিম আয়কর ও সরবরাহের বিপরীতে ন্যূনতম আয়কর ধারা ৮২-সি-এর উপধারা-২-এর ধারা (বি)-এ উল্লেখিত ৫২ এবং এর উপধারা (দুই) সম্পূর্ণ বিলুপ্তকরণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেশের সমুদয় চাহিদা মিটিয়ে সিমেন্ট রপ্তানি করছি, কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতের রপ্তানি প্রণোদনা বা রপ্তানি প্রত্যর্পণ (ডিউটি ড্রব্যাক) সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাইনি।’
