প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। সংগঠনের এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতের ক্ষতি পোষাণো এবং ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণের কোনো রোডম্যাপ বা অ্যাকশন প্লান নেই।
রবিবার আয়োজিত বাজেট পরবর্তী এই সভায় বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভ্যাকসিনের বিকল্প নেই। যে কোনো মূল্যে দেশের ৬০-৭০ ভাগ মানুষকে দ্রুত ভ্যাকসিনের আওতায় আনা উচিত। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। প্যানেল আলোচক ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। ওয়েবিনার পরিচালনা করেন অ্যামচেমের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, কোকাকোলা বাংলাদেশের এমডি তাপস কুমার মন্ডল, আব্দুল মোনেম ইকোনমিক জোনের সিইও এ গফুর, সিটি ব্যাংক এনএ-এর রাজ শেখর, বেসিসের সৈয়দ আলমাস কবীর প্রমুখ।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির তিনটি স্তম্ভ হচ্ছে কৃষি, প্রবাসী আয় এবং তৈরি পোশাক খাত। এগুলো সচল রাখতে প্রয়োজন দক্ষ মানব সম্পদ। করোনার কারণে যে লস হয়েছে এটা ঠিক। আমরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। বর্তমানে ভ্যাকসিন প্রয়োজন, এ কথা অস্বীকার করার কিছু নেই। সরকারের পক্ষ থেকে ভ্যাকসিনের বিকল্প উত্স খুঁজে দেখা হচ্ছে। বাজেটে এজন্য বরাদ্দও রাখা হয়েছে। আমরা চাই বেসরকারি খাত অর্থনীতির ‘ড্রাইভার’ হবে। সেই লক্ষ্যেই বাজেটে বিভিন্ন সুযোগ রাখা হয়েছে।
ড. আতিউর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং করোনা মহামারির মতো দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট খুবই গুরুত্ব বহন করে। ভ্যাকসিন কেনার ক্ষেত্রে টাকা সমস্যা নয়। অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়াতে হলে যে কোনো মূল্যে ৬০-৭০ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। এই মুহূর্তে ভ্যাকসিন খাতে অর্থায়নই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শহরের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত সহায়তা নিতে পারছে। কিন্তু গ্রামীণ শিক্ষার্থীরা সব সময় পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ইন্টারনেটের দাম কমাতে হবে। বাজেটের আকার কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়ন করা।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা কেন্দ্র নির্ভর। উন্নত দেশগুলোর মতো শিক্ষা ব্যবস্থা স্থানীয় সরকারের হাতে দিয়ে দেওয়া উচিত। আগামী বাজেটে শিক্ষা খাতে আরো বরাদ্দ উচিত ছিল। করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের দেড় বছর নষ্ট হয়েছে। এভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা উচিত হয়নি। এটা স্থানীয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিতে পারত। যেখানে করোনার প্রার্দুভাব থাকত শুধু সেখানেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে ভালো হতো। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে। শিক্ষার এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে উঠবে জানা নেই। বাজেটেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, বাজেটে অনেকগুলো ভালো দিক রয়েছে। যা এই সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাজেট বাস্তবায়ন এবং উন্নয়কে বাধাগ্রস্ত করছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব।
