সুজনের সভায় বক্তারা

এনআইডি স্বরাষ্ট্রে নেওয়াটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ২১:৫৬

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা বলেছেন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পত্র অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে অর্পণ করা হলে নির্বাচন কমিশনের একটি বৃহত্ অংশ সরকারের উল্লেখিত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে ন্যস্ত হবে, যা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সত্তা খর্ব হবে, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা নিয়ে দেশ-বিদেশে সরকারের ব্যাপারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। অপরদিকে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও ব্যবহারে জটিলতা সৃষ্টি হবে। এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছেই রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষাসেবা বিভাগে এনআইডি কার্যক্রম হস্তান্তর করার বিষয়টি আলোচনায় এলে সভাটির আয়োজন করে সুজন। ‘সরকার কর্তৃক জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার উদ্যোগ ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক এ ভার্চুয়াল আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সুজনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য বিচারপতি এম এ মতিন। সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

এনআইডি কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সম্পৃক্ত ড. এম সাখাওয়াত হোসেন তার প্রবন্ধে বলেন, এনআইডি প্রকল্পটি যখন হাতে নেওয়া হয় তখন কোনো সরকারি মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে এ প্রকল্পে কোনো ধরনের আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এমনকি কোনো মন্ত্রণালয় থেকে একজন প্রজেক্ট ডিরেক্টর খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রকল্পটি প্রায় শতভাগ দাতাদেশগুলোর সহযোগিতায় সম্পন্ন করা হয় এবং ইউএনডিপির হস্তান্তরের পর নির্বাচন কমিশন গত ১৩ বছর যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করে আসছে।

বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর কেউ আস্থা রাখতে পারছেন না। এখন যে ক্ষমতাটা সেটা সাংবিধানিক ক্ষমতা আর আইন করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিলে সেটা সাব-অর্ডিনেট হয়ে যাবে। বড় ক্ষমতা থাকতে ছোট ক্ষমতায় যাব কেন সেটাও একটা বিষয়। সাবেক মন্ত্রী শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নিবন্ধন কমিশন নামে একটি নতুন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে এই দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়নি কী উদ্দেশ্যে এটা করা হচ্ছে। কমিশনের হাতে থাকলে কী অসুবিধা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে গেলে কী সুবিধা তা-ও জানানো হয়নি। এটি পরবর্তী নির্বাচনের নতুন তরিকার পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ছবিসহ ভোটার তালিকা আমাদের গর্বের ধন। এটিতে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করা ঠিক হবে না।

বিশিষ্ট সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, তিন বছর ধরে আমরা দেখছি সরকার নির্বাচন কমিশনকে অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের বেশি কিছু মনে করে না। অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের ওপর আমাদের আস্থা নেই। তবে এই সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গেলে বিষয়টি আরো ভয়ংকর হবে। বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, এতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি ও আর্থিক বাণিজ্য বাড়বে। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।