রাতভর বাথরুমে পড়ে ছিল ঢাবি ছাত্রী

আপডেট : ০৬ জুন ২০২১, ২১:৫৭

রাজধানীর আজিমপুরের পলাশি সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের ১৮ নম্বর ভবনে নীচতলায় সাবলেট থাকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান তুষ্টি। রবিবার ভোরে বাসার বাথরুমের দরজা দীর্ঘক্ষণ না খুললে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এসে সকাল ৭টায় তাকে উদ্ধার করে। রুমমেটদের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী, রাত দেড়টা কিংবা ২টা থেকে বাথরুমে ছিল তুষ্টি। সকালে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তুষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত। তার বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সুখারী থানার নীলকণ্ঠপুর গ্রামে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ থাকায় সাবলেট নিয়ে থাকতো। তুষ্টির রুমমেট ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাহনুমা তাবাসসুম রাফি জানান, ‘তুষ্টির শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। গত শনিবার প্রয়োজনীয় কাজে ক্যাম্পাসে যান। ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজে যায়। বাসায় ফিরে বলছিল তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় তাকে। একপর্যায়ে রুমের অন্য সদস্যরা ঘুমিয়ে যায়। এরপর সকাল ৬টার দিকে বাড়ির মালিক দীর্ঘক্ষণ বাথরুমের ট্যাপ থেকে পানি পড়ার শব্দ পান, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলার কারণে তুষ্টিদের রুমে খোঁজ নিতে আসেন তিনি। পরে দেখেন তুষ্টি বিছানায় নেই। অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টার পরেও দরজা না খুললে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।’ তুষ্টি মাত্র পাঁচ দিন আগে ঐ বাসায় উঠেছিল বলে ইতি নামের তার আরেক রুমমেট জানান। ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘তুষ্টির শরীরে জখমের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’ এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে আমরা জেনেছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছি। তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছেন তারা।’

গ্রামে শোকের মাতম:এদিকে তুষ্টির মরদেহ উদ্ধারে গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মেয়ের মৃত্যুর খবর শুনে মা হেনা আক্তার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। বার বার বলছিলেন, ‘এত কষ্ট করে মেয়েকে লেখাপড়া করাইছি। কেন এই সর্বনাশ হলো আমার? আমার মেয়েকে এনে দাও বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।’