হাইকোর্ট বলেছে, ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত অপরাধী যদি অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কোনো কৌশলে নিজেকে বাঁচিয়ে নিরপরাধ ব্যক্তিকে জেল খাটায় সেটা দুর্ভাগ্যজনক। হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির আপিল শুনানিকালে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই মন্তব্য করেন। এ সময় মিনুর আইনজীবী হাইকোর্টকে বলেন, বিগত দুই বছরে আমাদের দেশে এমন ২৬টি ঘটনা ঘটেছে।
যেখানে একজনের পরিবর্তে আরেক জন জেল খাটছেন।
চট্টগ্রামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। কিন্তু তার পরিবর্তে জেল খাটছেন মিনু নামের আরেক নারী। বিষয়টি গত মার্চ মাসে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারকের নজরে আনেন সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান। পরে মিনুকে আদালতে হাজির করে তার বক্তব্য রেকর্ড করে আদালত। কিন্তু যাবজ্জীবন সাজার মামলার মূল আসামি কুলসুমের আপিল উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে নথি সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়ে দেন। পরে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মো. শিশির মনির।
গত ৩১ মার্চ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ এ বিষয়ে এফিডেভিট দাখিলের আদেশ দেন। কিন্তু করোনাকালে ঐ বেঞ্চের এক্তিয়ারে পরিবর্তন আসায় মামলাটি শুনানির জন্য আসে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে।
গতকাল শুনানিতে মো. শিশির মনির বলেন, প্রকৃত আসামি শনাক্তে অনেক পদ্ধতি আছে। আইবলিং পদ্ধতি বা বায়োমেট্রি ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে এ ধরনের ভুল এড়ানো সম্ভব। তবে মিনুর জেল খাটার ঘটনায় একটি চক্র কাজ করছে। তাই পুরো ঘটনার বিচারিক অনুসন্ধান প্রয়োজন।
এ পর্যায়ে আদালত বলে, আমরা মনে করি এভাবে যদি মূল অপরাধী অর্থের বিনিময়ে হোক অথবা বিভিন্ন কৌশলের মাধ্যমে নিজেকে বাঁচিয়ে অন্য নিরপরাধ লোককে জেলের মধ্যে আটক রাখে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক।
রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উল্লাহ বলেন, আমরাও চাই দোষীদের শাস্তি হোক। নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যেন জেল না খাটেন। সরকার কখনো এটা চায় না। এরপরই আদালত আজ সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেন।
