বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মহামন্দা ও কোভিড-১৯ মহামারির অভিঘাত মোকাবিলা করে শোভন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের জনস্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দ্রুত ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য :শোভন সমাজের সন্ধানে’ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় তারা এই তাগিদ দেন।
শনিবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত রচিত ‘বড় পর্দায় সমাজ-অর্থনীতি-রাষ্ট্র :ভাইরাসের মহাবিপর্যয় থেকে শোভন বাংলাদেশের সন্ধানে’ গবেষণাগ্রন্থের ওপর আলোচক হিসেবে ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দে র প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কানাডার স্বাস্থ্য পরিবেশ ব্যুরোর সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ হান্নান এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক পরিচালক ডা. ফওজিয়া মোসলেম।
ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের সরকার এখনো আড়াই শ বছর আগের কলোনিয়াল যুগেই আছে। আর সে কারণেই সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদ অর্থনীতির সবটুকুই খেয়ে ফেলছে। সরকার লক্ষ-কোটি টাকা প্রণোদনা দিচ্ছে, যার বেশির ভাগ ধনীরা হাতিয়ে নিচ্ছে। শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই স্বাস্থ্য খাতের সংকট দূর হবে না। টিকার প্রাপ্তি ও গবেষণা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সরকার যা করেছে, তার পেছনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিই জড়িত। তারাই তৃতীয় বিশ্বের গবেষণা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত করছে। তার মতে, জোড়াতালির অর্থ বরাদ্দ দিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সবই ধনীরা খেয়ে ফেলবে। এর জন্য আমাদের আগে গ্রামের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে, যেখানে বৃহত্ জনগোষ্ঠী থাকে। তারা যেটুকু ভিটামিন পাচ্ছে, তা দিয়ে করোনা ঠেকিয়ে রেখেছে। সেখানে চিকিত্সক থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার হতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যন্ত্রপাতি কিনতে উত্সাহী, দেশীয় গবেষণায় বা ন্যায্য সেবা দিতে আগ্রহী নয়।
ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, কোভিড-১৯-এ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৈন্য ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থে এখনো কোনো স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। সরকারের সঠিক কোনো পরিকল্পনা না থাকায় স্বাস্থ্য খাত এখন বেসরকারি খাতের দখলে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সহসম্পাদক অধ্যাপক শাহানারা বেগম। ভার্চুয়াল সেমিনারে আরো অংশ নেন অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, সহসম্পাদক শেখ আলী আহমেদ টুটুল।
