বোকো হারাম নেতা মারা গেছেন

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ২১:০১

প্রতিদ্বন্দ্বী জঙ্গি গোষ্ঠীর দাবি

বিবিসি ও রয়টার্স

নাইজেরিয়ার জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারামের নেতা আবু বকর শেকাউ মারা গেছেন বলে দাবি করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকান প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)। একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে আইএসডব্লিউএপি এ কথা জানিয়েছে।

ঐ অডিও রেকর্ডিংয়ে আইএসডব্লিউএপির নেতা আবু মুসাব আল বার্নাবি বলে মনে হওয়া এক ব্যক্তি বলেন, আইএসডব্লিউএপির সঙ্গে লড়াইয়ের পর তাদের যোদ্ধাদের তাড়ার মুখে একটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে শেকাউ আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনা ১৮ মের কাছাকাছি সময়ে ঘটেছে। রেকর্ডিংয়ে বার্নাবি বলতে শোনা যায়, ‘আবু বকর শেকাউ, তাকে বেহেশতে পাঠিয়ে আল্লাহ তার বিচার করেছেন।’ আল বার্নাবিকে চেনেন এমন দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেছেন, রেকর্ডিংয়ের কণ্ঠটি আইএসডব্লিউএপির নেতারই। নাইজেরিয়ার একজন সরকারি কর্মকর্তার শেয়ার করা একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এবং বোকো হারাম নিয়ে গবেষণারতরাও বলেছেন, শেকাউ মারা গেছেন।

আইএসডব্লিউএপি এক সময় বোকো হারামেরই অংশ ছিল। পাঁচ বছর আগে গোষ্ঠীটির এ অংশটি ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। এই রেকর্ডিংয়েই প্রথম আইএসডব্লিউএপি নিশ্চিত করে বলেছে, তাদের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী শাদ হ্রদ অঞ্চলে নিহত হয়েছেন। এতে আল বার্নাবি বলে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের নেতৃবৃন্দের নির্দেশে তার যোদ্ধারা শেকাউকে শেষ করার লক্ষ্য নেন এবং শেকাউ পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বোকো হারাম বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করেন।

টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের বোকো হারাম বিশেষজ্ঞ বুলামা বুকারতি বলেছেন, ‘ইসলামিক স্টেট শাদ হ্রদ এলাকা ও শেকাউয়ের ঘাঁটি অঞ্চলের পুরো এলাকার ওপর নিজেদের অবস্থান সংহত করেছে।’ বোকো হারামের কমান্ডার ও যোদ্ধাদের তাদের দলে ভেড়াতে ইসলামিক স্টেট উদ্যোগ নিয়েছিল বলে জানান বুকারতি; বলেন, ‘আইএসডব্লিউএপি শেকাউকে একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এবং সেই একমাত্র ব্যক্তি যাকে তারা সরিয়ে দিতে চাইছিল।’

২০০৯ সালে বোকো হারামকে একটি গোপন ইসলামিক সম্প্রদায় থেকে পুরোপুরি বিদ্রোহী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীতে রূপান্তরিত করেন শেকাউ। এরপর থেকে গোষ্ঠীটি নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে হত্যা, অপহরণ ও লুটপাটের বন্যা বইয়ে দেয়। তারপর থেকে এই গোষ্ঠীটির হাতে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ২০ লাখ লোক ঘরবাড়ি থেকে পালিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়।