দক্ষিণখানে অচল পয়োনিষ্কাশন সচলে নেই উদ্যোগ
নিলয় মামুন
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের চার ওয়ার্ডে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কের পানি বাসাবাড়ি ও দোকানে ঢুকে পড়েছে। ময়লা আবর্জনায় নর্দমা বন্ধ হয়ে থাকলেও তা সচল করতে কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী। সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণখান এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
সিটি করপোরেশনের ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের পানি ছয় দিনেও সরছে না। ৪৫ ওয়ার্ডের ফজিরবাতান মাজার রোডে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের নগরবাড়ি, হাজিপাড়া থেকে মাটির মসজিদ পর্যন্ত হাঁটুসমান পানি বাড়ির ভেতরে চলে এসেছে। ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক বাসিন্দা বলেন, এমন অবস্থা পানির, কাপড় উঠিয়েও সড়কে চলাচল করা সম্ভব না । বাসা বাড়ির ভেতরেও পানি চলে আসছে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা আছে বলে মনে হচ্ছে না। এভাবে কত দিন চলা যায়।
এ ছাড়া ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে আমতলা, চেয়ারম্যান বাড়ি, মধুবাগ, আল আকশা রোড, পূর্ব গাওয়াইর, আজমপুর সিএনজি ফার্ম রোড, আইনুছবাগ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে আইনুছবাগ এলাকায় পানি দোকান ও বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়েছে। এলাকার এক দোকানি বলেন, এভাবে শহরে থেকেও সামান্য বৃষ্টিতে পানি বন্দিজীবন কাটাতে হচ্ছে। পানির কারণে কোনো খদ্দের নেই । বাড়ি থেকেও কেউ বের হচ্ছে না। নিচতলায়ও অনেকের পানি উঠেছে বাড়ির মধ্যে।
৪৯ ওয়ার্ডের আশকোনা, সিটি কমপ্লেক্স, মেডিক্যাল রোডসহ বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, সড়েকর পানি না সরার কারণে যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। এ দুর্ভোগ বেশ কিছুদিন ধরে চলছে বলে তিনি জানান। এ ছাড়া ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের ছাপড়া মসজিদ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকার দায়িত্বে থাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৭ এর আঞ্চলিক নিবার্হী কর্মকর্তা মোতাকাব্বীর আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘যে জনবল রয়েছে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। দক্ষিণখানের বেশির ভাগ ওয়ার্ডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ময়লা-আবর্জনার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। সেটি পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছি। তবে এলাকার জনগণকেও সচেতন করতে হবে। লাইনের মধ্যে ময়লা ফেলার কারণে ড্রেনেজ সিস্টেম বিকল হয়ে গেছে বহু জায়গায়।’
