বীজবিহীন চেরি টম্যাটোয় তাক লাগানো সাফল্য

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ২১:৩৩

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞানী চেরি টম্যাটো উদ্ভাবন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ কে এম আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি বিউ চেরি টম্যাটো-২, বিউ চেরি টম্যাটো-৩, বিউ চেরি টম্যাটো-৪ ও বিউ চেরি টম্যাটো-৫ নামে চারটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। তার উদ্ভাবিত চেরি টম্যাটোর জাত চারটি জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক বাণিজ্যিকভাবে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন লাভ করেছে।

গবেষক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, আমাদের দেশে ভোক্তা ও চাষি পর্যায়ে চেরি টম্যাটোর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।  বিউ চেরি টম্যাটোর জাতগুলো দেশি আবহাওয়ায় কোনো রকম অতিরিক্ত যত্নবিহীনভাবে দেশি টম্যাটোর মতোই শীতকালে চাষযোগ্য, উচ্চফলনশীল, আকর্ষণীয় আকৃতি ও বর্ণ, খেতে সুস্বাদু, মিষ্টি, কম বীজযুক্ত বা প্রায় বীজ বিহীন ও পুষ্টিকর। গাছ প্রতি ফলন আড়াই থেকে সাড়ে তিন কেজি। এছাড়া সুপার শপগুলোতে যে বিদেশি বীজ বিহীন বা কম বীজযুক্ত চেরি টম্যাটো পাওয়া যায় তার বেশির ভাগই প্রায় ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়। সেক্ষেত্রে এই জাতগুলো আমাদের জন্য হতে পারে বিদেশি জাতগুলোর পরিপূরক। তাছাড়া যে কোনো সবজির মধ্যে রান্নার পর টম্যাটোর এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলি সবচেয়ে বেশি অক্ষুণ্ন থাকে। আর নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোর রান্না ছাড়াই পাকা অবস্থায় আঙুরের মতো খাওয়া যায় বিধায় এবং এদের এন্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলি বেশি। ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করবে বলে গবেষক প্রফেসর আমিনুল ইসলাম মনে করেন। তাছাড়া টম্যাটোতে বেশি পরিমাণে লাইকোপিন থাকায় ত্বকের যত্নে চেরি টম্যাটো খুবই উপকারী।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো জাতই এসেছে কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের এই অধ্যাপকের হাত ধরে। জাতগুলোর আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য এরা বাণিজ্যিক উত্পাদন কিংবা ছাদবাগান, উভয় ক্ষেত্রেই সমান জনপ্রিয়তা পাবে।