রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়সংলগ্ন বাসাবাড়ি থেকে বিদ্যুত্ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য দেওয়া নোটিশের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকশী। গত রবিবার বিকেলে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের পর রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) কার্যালয় ঘেরাও শেষে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘আগে পাকশীবাসীকে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করতে হবে, তারপর উচ্ছেদ। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন করা না হলে প্রয়োজনে জীবন দেব, তবু প্রিয় পাকশী ছাড়ব না।’ তারা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছেদ করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এ ঘোষণার পরও রেলওয়ের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা উচ্ছেদের পাঁয়তারাস্বরূপ বারবার নোটিশ দিচ্ছেন। সাবেক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল জানান, ব্রিটিশ আমলে রেললাইন স্থাপন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে রেলওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীর পাশাপাশি কয়েক হাজার ছিন্নমূল মানুষ এখানে বসবাস করে আসছে। কিন্তু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের (আরএনপিপি) নিরাপত্তায় নিরাপত্তা ফোর্স বেজ গঠনের জন্য রেলওয়ের পরিত্যক্ত জমি বরাদ্দ না দিয়ে জনবসতি এলাকা থেকে মানুষ উচ্ছেদ করে জমি প্রদানের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম বলেন, ‘রেলওয়ের বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে বসবাসকৃতদের উচ্ছেদ করতে বিদ্যুত্ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ। বাজেট এলেই রেলওয়ে কর্মচারীদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে। সে পর্যন্ত তারা বরাদ্দকৃত বাসাতেই থাকবেন। কিন্তু অবৈধভাবে বসবাসকৃত ছিন্নমূল বা অন্যদের জন্য আমাদের কিছুই করার নেই।’
