জলঢাকায় টাকার জন্য বন্ধুর বাবাকে খুন

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ২২:১৩

জলঢাকায় ৩ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বন্ধুর বাবাকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ঘাতক রুবেল (৩৫)। গত শুক্রবার মোবাইল ফোন ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের মৌচাক টমস্টার বাজারের তেলির চেল্লি বস্তি থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন শনিবার জলঢাকা থানায় তাকে সোপর্দ করা হয়। রুবেল উপজেলার উত্তর চেরেঙ্গা গ্রামের মৃত আমিনুর রহমানের ছেলে এবং শহরের চৌধুরী সুপার মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী। হত্যার শিকার হাফিজুর রহমান একই গ্রামের মৃত তালেব উদ্দিনের ছেলে এবং পৌর এলাকার জাহান অটোরাইস মিলের ম্যানেজার। 

রবিবার প্রেস ব্রিফিংয়ে রুবেলকে গ্রেফতারসহ হত্যারহস্য উদ্ঘাটনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম, পিপিএম)। প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রুবেল এবং হাফিজুর রহমানের ছেলে ছাদেকুল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। জলঢাকা বাজারে তাদের পাশাপাশি দোকান রয়েছে। ঋণে জর্জড়িত থাকায় টাকার প্রয়োজনে রুবেল ছাদেকুলের কাছে তার দোকানঘরটি ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। ৩১ মে ৩ লাখ টাকা পরিশোধের কথা ছিল ছাদেকুলের। ঐ দিন রুবেলকে ছাদেকুলের বাবা হাফিজুর রহমান ঐ টাকা দেওয়ার জন্য জলঢাকা বাজারে আসেন। এ সময় কৌশলে হাফিজুরকে শহরের অদূরে মোলাংগাড়ী ব্রিজ নদীরপাড় এলাকায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পথচারী চলে আসায় টাকা না নিয়েই পালিয়ে যায় রুবেল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাফিজুরের মরদেহ ও নিহতের সঙ্গে থাকা দুই লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯ টাকা উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ১ জুন নিহতের ছেলে ছাদেকুল ইসলাম বাদী হয়ে রুবেলকে আসামি করে জলঢাকা থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ সুপার আরো বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল, ‘দোকানঘর কেনার টাকা ছিনতাই করতে হাফিজুরকে হত্যা করেন।’

জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রবিবার রুবেলকে নীলফামারী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সবদেব রায়ের আদালতে হাজির করা হলে সে হত্যার ঘটনাসহ দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে ঘাতক রুবেলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।