ভারতকে হারানো কঠিন হবে এটা আগেই জানা ছিল। অন্তত জয় না হোক ড্র হলেও বাংলাদেশের প্রাপ্তি থাকবে। কিন্তু পুরোনো রোগে বাংলাদেশ আবারও আক্রান্ত এটা কাল রাতে কাতারের দোহায় বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ফুটে উঠেছে। ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে ভারতের কাছে ২-০ গোলে হেরে বাংলাদেশের সব চেষ্টা শেষ। দুই দলের একটি করে ম্যাচ আছে। ভারত খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। এই ম্যাচ জিতলে রাউন্ড থ্রিতে যাবে ভারত। এশিয়ান কাপে যাবে। আর বাংলাদেশকে প্লেঅফ খেলতে হবে।
ভারতের অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী জোড়া গোলে বাংলাদেশ হেরে গেল। আশঙ্কা ছিল সুনীল বিপজ্জনক কিছু করবেন। সুনীল কোনো ম্যাজিক দেখাতে পারেননি। ডিফেন্স লাইন যেন সুনীলকে গোল উপহার দিয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার সুনীল যতটা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তার সিকি ভাগও কষ্ট করতে হয়নি। বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইন সুনীলকে ফাঁকা জায়গা করে দিল। কিংবা তপুদের চোখ ফাঁকিয়ে সুনীল ফাঁকা জায়গা আদায় করে নিল। আর তাতেই টপাটপ দুই গোল হজম। ৭৯ মিনিটে প্রথম গোল (১-০), আর শেষ বাঁশি বাজার আগে ইনজুরি টাইমে দ্বিতীয় গোল (২-০) করে সুনীল ভারতীয় দর্শকদের আনন্দে ভাসালেন। এটাই সুনীলের বাহাদুরি। সময় মতো কাজের কাজটা করে ফেলার দারুণ ক্ষমতা তার হাতে। যেই সুনীলকে নিয়ে যেত ভাবনা সেই সুনীলই তপু, জামালদের বুকে পেরেক ঠুকলেন।
২০১৯ সালের অক্টোবরে কলকাতার মাঠে গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ১-০ গোলে এগিয়েছিল। শেষ মুহূর্তের গোলে ড্র করে ম্যাচ বাঁচায় ভারত। আর গতকাল সেই ড্রয়ের প্রতিশোধ নিলো বাংলাদেশকে হারিয়ে।
দোহায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ডিফেন্ডার তপু বর্মন দুর্দান্ত একটা গোল করে বাংলার ফুটবলের ঝান্ডা মুক্ত বাতাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কাল সেই তপুর পাশে দাঁড়িয়ে সুনীল গোল করলেন বিনা পরিশ্রমে। অথচ এর আগ পর্যন্ত সুনীলের সব চেষ্টা বৃথা যাচ্ছিল না। এমন না যে তপু, রহমতরা ঠেকিয়ে দিচ্ছিলেন। টিভির পর্দায় পরিষ্কার দেখা গেল দুই গোলই হয়েছে তপুর আশপাশ দিয়ে। এখানে এটাও বলতে হয় ভারত যখন ফরমেশন পরিবর্তন করে তখন জামাল ভুঁইয়া জামালকে তার চোখে চোখে রাখতে পারেননি। ভারত পুরো কৌশলী ফুটবল খেলে ম্যাচ তুলে নিয়েছে।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল কাউন্টার আক্রমণে ভারতের গোল মুখে যাওয়া। সেটা পারেনি। ভারতীয় গোলকিপার গুরপ্রীত সিন্ধুকে পুরো খেলায় একবার বল ধরতে দেখা গেছে। ভারতের ব্র্যান্ডন, গ্ল্যান মার্টিন, মানভির সিং, উদন্ত সিং বাংলাদেশকে খেলতে দেয়নি। ওরা পরিকল্পনাটা ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। ১৩ মিনিটে দুই গোল হজম করে পুরো ম্যাচের চিত্রনাট্য ঘুরিয়ে দিয়েছে ভারত।
অথচ এর আগে কয়েকবার গোলের সুযোগ পেলেও বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো বলে জালে বল যায়নি। এনসানা সিং কনসামের হেড গোল লাইন হতে সেভ দিয়েছেন রিয়াদুল হাসান। ভারত ৯টা কর্নার পেয়েছিল। বল পজেশনে ভারতের ছিল ৭২ পারসেন্ট। অথচ এমন দুটি গোল হজম করেছে যেন গোল উপহার দিয়েছে। আফসোসে পুড়ছে বাংলার ফুটবল দর্শক। ম্যাচ শেষে ডাগআউটে চুল এলোমেলো বিধ্বস্ত কোচ জেমি ডে। আর অন্য প্রান্তে ভারতীয় কোচ ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিমাচ আনন্দের উল্লাসে মাতোয়ারা।
দুই দেশের ফুটবল পার্থক্যে ভারত ৭৯ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে । তাছাড়া এই দুই দেশ যখন ফুটবলে লড়াই করে তখন খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা মনস্তাত্ত্বিক লড়াই হয়। সেখানে যারা টিকে থাকে তাদের পক্ষেই যায় ম্যাচের ফল। কাল রাতে ম্যাচ শেষে কোচ জেমি জানিয়েছেন ভারত ম্যাচের হার ভুলে গিয়ে তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছেন। ‘ই’ গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ১৫ জুন আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
