আর কত ভুল আর কত শিক্ষা নেবে

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ২০:৩৮

  সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

ভারতের কাছে হেরে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে বললেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ জেমি ডে। কয়টা ভুল থেকে শিক্ষা নেবেন সেটা বলেননি জেমি। ভারতের ম্যাচ বাংলার ফুটবল দর্শক দেখেছেন। টিভির পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ হয়েছিল। সোমবার রাতে বিশ্বকাপ এবং এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ-ভারতের ফিরতি ম্যাচটা দেখে খুব একটা ভালো লাগেনি দর্শকের। যারা ফুটবল দেখেন, আবেগ বুঝেন তাদের চোখ এড়িয়ে যায়নি বাংলাদেশের ফুটবলারদের দুর্বলতা। একটা ভালো পাসও দিতে পারেনি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। ভারতের ফুটবলারদের ভুলের সুযোগ বল পেয়েও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি। একটা ফিনিশিং ছিল না। বল নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার সুযোগটা তৈরি করতে পারেনি। খেলাটাকে বিল্ডআপ করতেও দেখা যায়নি।

দুই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দল বলেছিল তারা জিততে পারবে। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে একটা ছন্দ তৈরি করেছিল। তা দেখে দেশের ফুটবল দর্শকও আশা জাগিয়েছিলেন। ভারতকে উড়িয়ে দেবে এমন কিছু প্রত্যাশা করেননি। তবে আগের খেলাটা খেলবেন এমন প্রত্যাশা নিয়ে টিভির পর্দায় বসেছিলেন। কিন্তু উঠল হতাশা নিয়ে। ম্যাচ হারের চেয়েও বেশি চোখে পড়েছে খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে ছন্দ নেই। পরিকল্পনা নেই।

সুনীল ছেত্রীদের খেলা দেখে মনে হয়েছে তারা বাংলাদেশ নিয়ে অনেক বেশি হোমওয়ার্ক করে এসেছে। ম্যাচে নামার আগে প্রথম লড়াইয়ের ভিডিও এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের ভিডিও দেখে দেখে বাংলাদেশের ফুটবলারদের শক্তি, দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে। মাঠে নেমে ভারত এক ইঞ্চি জায়গা দেয়নি বাংলাদেশকে। জামাল ভুইয়া, মতিন, মানিক মোল্লা, রাকিব, আব্দুল্লাহ, তারিক কাজী, বিপলু, মাসুক মিয়া জনিরাও জায়গা খুঁজে বের করতে পারেননি। সুনীলদের বিছানো জালে জামালরাই আটকা পড়েছিলেন। জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি সংবাদমাধ্যমকে ম্যাচ নিয়ে বলছিলেন ভারত জায়গাই দেয়নি। স্পেস তৈরি নিতে পারেনি জামালরা। জামাল মিডফিল্ডার হিসেবে যেভাবে খেলাটাকে তৈরি করতে পারতেন সেটা হয়নি।’ 

সুনীল ছেত্রীরা এমনভাবে মাঝমাঠ এবং রক্ষণভাগ সিলগালা করে দিয়েছিল যে, জামাল ভুইয়ারা ভুল করতে বাধ্য হবেন। প্রতিপক্ষের বাঁধ কীভাবে ভাঙতে হয় সেটা করে দেখাতে পারেননি বাংলাদেশের ফুটবলাররা। তার পরও ভারত গোল করতে না পারায় ম্যাচটা বাংলাদেশের পক্ষেই ছিল। ভারত একাধিক সুযোগ পেয়েও গোল না পাওয়াটা ছিল দুর্ভাগ্যের। বেঁচে গিয়েছিল বাংলাদেশ। গোল নাইন হতে বল ফিরে এসেছিল। সুনীলের হেড বাইরে যায়। আরো একটি মঠ গোলপোস্টে যায়নি। এত সব বেঁচে যাওয়ার ঘটনাও বাংলাদেশকে সতর্ক করতে পারেনি।

রহমত মিয়া যেভাবে জায়গা ছেড়ে দিলেন সেখান থেকে গোলের উত্স তৈরি হলো। একটা দুর্বল ক্রসের বল পেছন থেকে দৌড়ে এসে গোল করলেন সুনীল। সেখানে ডিফেন্ডার তপু বর্মন, দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারলেন না। তপুর দায়িত্ব ছিল সুনীলকে চোখে রাখা। সেটি পারলেন না তপু। চতুর স্ট্রাইকার সুনীল নিজেও হয়ত অবাক হয়েছেন এভাবে এই পজিশনে বল পাবেন তিনিও হয়ত কল্পনা করেননি। দুই দুটি গোল দেখে মনে হলো বাংলাদেশের ডিফেন্স লাইন গোল উপহার দিয়েছে। সাবেক স্ট্রাইকার শেখ মো. আসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলছিলেন তপুর চেহারা দেখুন। তার দমই ছিল না।’