কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়টি আলোচনায় আসলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে বরাবরের মতো এবারও কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে আশঙ্কা করছেন পাইকারি বিক্রেতারা। কাঁচা চামড়া না হলে ‘ওয়েট ব্লু’ চামড়া রপ্তানির পক্ষে অনেকেই মত দিয়েছেন। এছাড়া দেশে চামড়াজাত পণ্য তৈরিতে চামড়ার চাহিদা বাড়াতে হবে। এতে কাঁচা চামড়া বাজারে মন্দা ঠেকানো যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা। তবে অনেকের অভিযোগ ট্যানারি মালিকদের কাছে বাকিতে চামড়া বিক্রির কারণে কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য মিলছে না। ইতিপূর্বে অনেক বকেয়া টাকা তামাদি হয়ে গেছে। ট্যানারি মালিকদের সরকার ব্যাংক ঋণের সুবিধা দিয়ে থাকেন। তারপরও ট্যানারিগুলো বাকিতে চামড়া কিনে থাকে। গত কয়েক বছর ধরে কাঁচা চামড়ার বাজারে অব্যাহত ধস ঠেকানোর জন্য কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়টি আলোচনায় আসে। কারণ অতি মূল্যবান রপ্তানিজাত এই পণ্যটি বিক্রি করতে না পেরে খালে-বিলে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। বিক্রি হলেও কোরবানি দাতারা ২০০-৩০০ টাকার বেশি পায় না। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি করা গেলে চামড়ার বাজারে ধস ঠেকানো যেত। আগে ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি হলেও ১৯৮৮ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের আড়তদার কাঁচা চামড়া বিক্রেতা মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন বলেন, কাঁচা চামড়া নয়, ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি করতে পারলে চামড়ার বাজারে ধস ঠেকানো যাবে। এক সময় ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানি হতো। ১৯৮৮ সালে চামড়া শিল্পে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তত্কালীন সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। ট্যানারি মালিকরা জানান, বিশ্ব মহামারি করোনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চরম মন্দা বিরাজ করছে। কাঁচা চামড়া রপ্তানি করতে গেলে আগে বাজার খুঁজতে হবে। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। আর এখন কোনো দেশ কাঁচা চামড়া আমদানি করছে না। বিভিন্ন দেশ ওয়েট ব্লু চামড়া আমদানি করছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিচ্ছে। তাদের মধ্যে দুই জনের ট্যানারি আছে অন্য দুই জনের ট্যানারি নেই। কাঁচা চামড়া রপ্তানি করে লাভবান হওয়া যাবে না। বিভিন্ন দেশে এখন লকডাউন চলছে। বিকল্প কিছু চিন্তা করতে হবে। ট্যানারি মালিক তারিকুল ইসলাম খান বলেন, আমাদের দেশে প্রায় ১৫৫টি ট্যানারি রয়েছে। কাঁচা চামড়া রপ্তানি করলে ট্যানারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাঁচা চামড়ার দাম নিশ্চিত করতে হলে বাকিতে চামড়া বিক্রি বন্ধ করতে হবে। ট্যানারি মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। অনেক বকেয়া টাকা তামাদি হয়ে গেছে। আমাদের চামড়া জাতীয় পণ্যের বাজার বিদেশিদের দখলে চলে গেছে। ফলে দেশে চামড়া শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে আমাদের চামড়া বাজার সৃষ্টি করতে হবে।
ট্যানারি মালিক আবু মোহাম্মদ বলেন, চামড়ার রপ্তানির বাজার ধরে রাখতে হলে ট্যানারিগুলো পরিবেশবান্ধব করতে হবে। কাঁচা চামড়ায় ছয়-সাত ঘণ্টার মধ্যে লবণ দিতে হবে। সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন চামড়া সংরক্ষণের জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।
