মুস্তাফিজে অনুপ্রাণিত সাইফউদ্দিন

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:৫৭

ব্যাটিংয়ে যেমন তেমন বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের বোলাররা। এই গত ১৩ জানুয়ারি রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে শেষ ওভারে, ২৬ জানুয়ারি চিটাগং ভাইকিংসের বিরুদ্ধে শেষ ওভারে রুখে দিয়েছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দুই ম্যাচে যথাক্রমে শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ এবং ১৩ রান।

গতকাল ডেথ ওভারে কারিশমা দেখালেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে শেষ ওভারে ১৩ রান আটকে দিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে শ্বাসরোধী জয় এনে দেন এই অলরাউন্ডার। কুমিল্লা-ঢাকার ধ্রুপদী লড়াইয়ে ১ রানে কুমিল্লার জয়ের নায়ক সাইফউদ্দিন। আর বিষম চাপের এই সময়ে কার্যকর বোলিংয়ের প্রেরণা পেয়েছেন এই তরুণ মুস্তাফিজের কীর্তি দেখে।

আন্দ্রে রাসেলের মতো খুনে মেজাজের ব্যাটসম্যান স্ট্রাইকে থাকলেও সাইফউদ্দিন শেষ হাসি হেসেছেন লক্ষ্যভেদী ইয়র্কার মেরে। গতকাল ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলাতে থাকা ম্যাচের অন্তিম ওভারে বোলিংয়ে আসেন ডানহাতি এই মিডিয়াম পেসার।

প্রথম বলে রুবেল এলবির ফাঁদে পড়েন। দ্বিতীয় বলে শাহাদাত নেন ১ রান। তৃতীয় ও চতুর্থ বল ডট। চাপ বাড়তে থাকে আন্দ্রে রাসেলের উপর। পঞ্চম বলে ওয়াইড ইয়র্কার থেকেও ছক্কা মেরে দেন এই ক্যারিবিয়ান। ষষ্ঠ বলটি আদর্শ ইয়র্কার। তাতে ভূপাতিত রাসেল। এবং শক্তিশালী ঢাকা। বিপিএলে এবার দুই ম্যাচেই ঢাকাকে হারাল কুমিল্লা।

ফিল্ডিংয়ে বাঁ হাতে ব্যথা পেয়ে দুই ওভার মাঠের বাইরে ছিলেন সাইফউদ্দিন। ব্যান্ডেজ করে ফিরে এসে বোলিং করেন শেষ ওভার। ওই ওভারের পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাইফউদ্দিন বলেছেন, বোলিংয়ের সময় মুস্তাফিজের কথা মাথায় ছিল তার।

আরও পড়ুন: কয়েক হাজার ভুয়া অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলল টুইটার

তিনি বলেন, ‘আমার প্ল্যান ছিল ওয়াইড ইয়র্কার। তবে রাসেল পাওয়ার হিটার, সে ভালো ছয় মেরে দিয়েছে। যেহেতু ওয়াইড ইয়র্কার হয়নি তাই শেষ বল ১০০% ইয়র্কার করেছি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, মুস্তাফিজ একই রকম একটা ম্যাচ জিতিয়েছিল রংপুরের বিপক্ষে। আমি এগুলো অনুভব করছিলাম। মুস্তাফিজ আমার বয়সী। ও পারলে আমি কেন পারব না। এই জিনিসটা মাথায় রেখে আমি বল করে সফল হয়েছি।’

চার ওভারে ২২ রানে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরাও হন সাইফউদ্দিন। ডেথ ওভারের বোলিংয়ে উন্নতির বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা যারা ক্রিকেটার, যারা ইন্টারন্যাশনাল প্লেয়ার; এদের মধ্যে যারা তারকা, গড়পড়তা প্লেয়ার হলে কোনো দাম নেই। অন্য প্লেয়ার থেকে অতিরিক্ত অনেক কিছু দেখাতে হবে। এটা আমি মাথায় নিয়েই বোলিং করি। কারণ আমাকে যদি কুমিল্লা অনেক গুরুত্ব দেয়, সেই গুরুত্বটা সবসময় ধরে রাখার চেষ্টা করি।’

বিপিএলে সাইফউদ্দিনের শুরুটা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে খেলে। দলটার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘কুমিল্লা আমার ঘরের মতই। আমাকে যখন কেউ চিনত না অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে, তখন ওরা আমাকে পিক করে। সুযোগ দেওয়ার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। শুরুতে ভালো করিনি তবুও ম্যাচের পর ম্যাচ সুযোগ দিয়েছে। আজ আমি সাইফউদ্দিন বিপিএলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি।’

বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে জায়গা ধরে রাখতে ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার চেষ্টা সবসময়ই করেন সাইফউদ্দিন। বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হলো, সামনে যেহেতু বিশ্বকাপ। স্বাভাবিক আমার চেষ্টা অন্য কিছু করার। যেহেতু ওয়ানডে টিমে জায়গা ধরে রাখা খুব চ্যালেঞ্জিং। শুরু থেকেই আমি চেষ্টা করছি কিছু একটা করতে হবে, সেই চেষ্টাই করছি।’

ইত্তেফাক/কেআই