বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম মূল্য দিচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাসমূহের উপকূলীয় জনপদের বিশাল একটি অংশ। জলবায়ু পরিবর্তনে কমে গেছে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় গড় বৃষ্টিপাত। ফলে লবণাক্ততায় গাছপালা মরে যাওয়ায় সূর্যের প্রচণ্ড তাপে টিনের ঘরগুলো হয়ে উঠছে সাক্ষাত্ অগ্নিকুণ্ড। একদিকে অস্বাভাবিক জোয়ারে বাঁধের নাজুক পরিস্থিতি, অন্যদিকে পানযোগ্য পানির অভাবে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে এলাকার মানুষের কপালে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপগুলোতেও পানির দেখা মিলছে না। অনেকে আবার বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যবহার করে পানি উত্তোলন করলেও আর্সেনিক সমস্যা সে প্রচেষ্টায় বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মানুষজন হাঁড়ি, কলসি, তেলের ড্রাম নিয়ে নৌকা বা ভ্যান যোগে ছুটছে দূরদূরান্তে পানযোগ্য একটু পানির খোঁজে। প্রতি ফোঁটা পানি তাদের কাছে এতই মূল্যবান যে তিনবেলা খাবারের পর হাত ধোয়ার পানিটুকুও তাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে আলাদা পাত্রে রক্ষিত বিল-খালের পানি দিয়ে। অনেক পরিবার বৃষ্টির আগে তাদের পারিবারিক পুকুরটি খনন করে রাখেন সারা বছরের খাবার পানির আধার হিসেবে। যেটা তারা ফুটিয়ে পান করেন বছর ধরে। কিন্তু প্রতিবছরই চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহে শৈবাল জন্মে পানের অযোগ্য হয়ে ওঠে। কেউ কেউ পানি ধরে রাখার পর্যাপ্ত পাত্রের অভাবে ঘরের মেঝে খুঁড়ে পলিথিন বিছিয়ে সংগ্রহ করেন বৃষ্টির পানি। বৃহত্ এ জনগোষ্ঠী তাই জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার সবশেষ আশা হিসেবে তাকিয়ে আছেন রাষ্ট্রীয়ভাবে দীর্ঘমেয়াদি কোনো উদ্যোগের দিকে।
শাহাদাত সুমন, সাভার, ঢাকা
