উচ্চ করোনা সংক্রমিত এলাকা বিবেচনায় খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়টি জেলার ১৬৩ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ৯ পৌরসভার ভোটও স্থগিত করা হয়েছে। পেছানো হয়েছে তিন সংসদ উপনির্বাচনের তারিখ। ১৪ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২৮ জুলাই ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। পূর্বের তপশিল অনুযায়ী আগামী ২১ জুন বাকি ২০৪ ইউপির এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার কমিশন সভার সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান। ইসি সচিব বলেন, করোনার ভাইরাস মহামারিতে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আইইডিসিআরের সুপারিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভোট স্থগিত হলেও এসব নির্বাচন কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।
আগামী ২১ জুন খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও নোয়াখালীর ১৬৩ ইউপিসহ ৩৭১টি, ১১ পৌরসভা ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচনের কথা ছিল। এর মধ্যে প্রার্থী মারা যাওয়ায় চার ইউপির ভোটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। ৩৬৭ ইউপির মধ্যে খুলনা বিভাগের সব ইউপি, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ইউপিসহ ১৬৩ ইউপির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের ৬৮টি, খুলনার ৩৪টি, সাতক্ষীরার ২১টি, নোয়াখালীর ১৩টি, চট্টগ্রামের ১২টি ও কক্সবাজার জেলার ১৫টি ইউপি রয়েছে।
গত ২ জুন দ্বিতীয় দফা ভোটের তারিখ ঘোষণার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) বরাত দিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ পেছাতে অনুরোধ জানিয়ে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার উল্লেখ করে ভোট পেছানোর অনুরোধ জানান। আইইডিসিআর অধিকতর উচ্চ ঝুঁকি জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, কক্সবাজার, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, সাতক্ষীরা, যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট, ফেনী, গোপালগঞ্জ ও মেহেরপুরকে চিহ্নিত করেছে।
বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, আইইডিসিআরের উল্লেখিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাইরে বরিশালসহ সবখানে নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে। বৈঠকে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোট নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে তিনি জানান। যেসব স্থানীয় সরকারের ভোট আটকে আছে, সেখানে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ অন্য জনপ্রতিনিধিরা বহাল থাকবেন কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিষয়।
৯ পৌরসভার ভোটও স্থগিত : নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষিত ১১টি পৌরসভার মধ্যে ৯টির ভোট স্থগিত করা হয়েছে। দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ ও ঝালকাঠি পৌরসভার ভোট যথাসময়ে ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে।
পেছাল তিন উপনির্বাচন: জাতীয় সংসদের তিনটি আসন ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ এ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল ১৪ জুলাই। তারিখ পরিবর্তন করায় এখন এই আসনে ভোট হবে ২৮ জুলাই। তবে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন ২১ জুন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জুলাই নির্বাচন পেছানোর জন্য জাতীয় পার্টি-জাপার পক্ষ থেকেও দাবি ছিল। ঐ দিন দলটির প্রতিষ্ঠাতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ভোট না রাখার দাবি জানিয়েছিল দলটি।
