‘বিশেষ সম্পর্ক’ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গতকাল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই কথা বলেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। তিনি ১০০ দরিদ্র দেশকে ৫০ কোটি ডোজ ফাইজারের করোনা টিকা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। এই প্রথম প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রথম বিদেশ সফরে কোনো সরকার প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করলেন। খবর বিবিসি, সিএনএন ও দ্য গার্ডিয়ানের
নতুন একটি ‘আটলান্টিক সনদের’ বিষয়ে একমত হতে তিনি বরিস জনসনের সঙ্গে আলোচনা করেন। গতকাল তারা চুক্তিতে স্বাক্ষরও করেন। ১৯৪১ সালে উইনস্টন চার্চিল এবং ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, এটি তারই একটি আধুনিক সংস্করণ। আগের ঐ চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও সুরক্ষাবিষয়ক চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ ছিল। ইংল্যান্ডের কর্নওয়ালে কারবিস বে হোটেলে বরিসের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, তাদের বৈঠক খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক বজায় আছে। ব্রিটেন এবং আমেরিকার নাগরিকরাও গণতন্ত্রসহ বিভিন্ন ইস্যুতে একই মত পোষণ করে। সেই ধারা বজায় রাখার ব্যাপারে দুই দেশই একমত। সাইবার নিরাপত্তা এবং জলবায়ু ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য, বলেন বাইডেন। প্রধানমন্ত্রী বরিস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে। এর আগে বাইডেন সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য-ইইউ বাণিজ্য নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে শান্তি বিপন্ন করতে পারে। এজন্য তিনি অন্যান্য নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাবেন যেন গুড ফ্রাইডে চুক্তির অর্জনগুলো রক্ষা করা যায়। বিবিসির পলিটিক্যাল এডিটর লরা কুয়েসবার্গ জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের শাসনামলের উত্তেজনা এবং মহামারির চাপের পরে এই দুই নেতার লক্ষ্য হলো তাদের সম্পর্ক আবার নতুন করে শুরু করা।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন ব্রিটেনে যাওয়ার আগে বুধবার সুফোকের আরএএফ মিল্ডেনহল বিমানবন্দরে মার্কিন সেনা এবং তাদের পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি পুতিনকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার সঙ্গে বিরোধ চাই না, আমরা একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক চাই। তবে আমি এটাও পরিষ্কার করে বলেছি যে, রাশিয়ার সরকার যদি ক্ষতিকারক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর এবং সমুচিত জবাব দেবে।’
বাইডেন পরিষ্কার করেই বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যেসব মিত্র দেশের সঙ্গে সম্পর্ক টানাপোড়েন অবস্থায় ছিল, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাই তার মূল উদ্দেশ্য। আট দিনের ইউরোপীয় সফরে বাইডেন উইন্ডসর ক্যাসলে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দেখা করবেন, আজ শুক্রবার জি-৭ নেতাদের বৈঠকে যোগ দেবেন এবং পরে প্রেসিডেন্ট হিসাবে প্রথম ন্যাটোর সম্মেলনে অংশ নেবেন। এই সফরের শেষে বাইডেনের জেনেভায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করার কথা। হোয়াইট হাউজ ইঙ্গিত দিয়েছে, তিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক সম্পৃক্ততা, রাশিয়ার সাইবার-হ্যাকিং কার্যক্রম এবং রাশিয়ার ভিন্নমতাবলম্বী অ্যালেক্সেই নাভালনিকে কারাগারে পাঠানোর মতো বড় বড় ইস্যুতে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করবেন। নাভালনির সঙ্গে যুক্ত তিনটি সংগঠনকে বুধবার চরমপন্থি বলে মস্কোর একটি আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে।
