কুষ্টিয়া শহরের কাস্টম মোড় এলাকার একটি বাড়িতে দিনেদুপুরে অস্ত্রধারী এক সন্ত্রাসীর উপর্যুপরি গুলিতে মা-সন্তান ও এক যুবক নিহত হয়েছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-শাকিল খান (২৮), আসমা বেগম (২৫) ও তার শিশুপুত্র রবিন (৫)। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হামলাকারী খুলনায় কর্মরত পুলিশের এএসআই সৌমেনকে অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কাস্টম মোড় এলাকায় তিনতলা বাড়ির সামনে গৃহবধূ আসমা বেগম তার শিশুপুত্র বরিনকে সাথে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অকস্মাৎ ওই গৃহবধূর মাথায় গুলি চালান। এতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এরপর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ওই গৃহবধূর পাশে থাকা বিকাশের ডিস্টিউবিউটর শাকিল খানের ওপরও গুলি চালান। এতে তিনিও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পর আতঙ্কিত শিশুপুত্র পালিয়ে যেতে উদ্যত হলে ওই অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শিশুটির ওপরও বর্বোরচিত হামলা ও গুলি চালায়। এতে শিশুপুত্র রবিনও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় উপর্যুপরি গুলির শব্দে এলাকায় ছুটে আসলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ওই বাড়ির মধ্যে পালিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি ওই সন্ত্রাসীর। এলাকাবাসীর সহয়তায় পুলিশ ওই সন্ত্রাসীকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করেছে।

ধৃত ওই ব্যক্তি খুলনার একটি থানায় কর্মরত পুলিশের এএসআই সৌমেন বলে পুলিশের স্থানীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে শাকিল খান বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর।
নিহত নারী আসমা ও শাকিল খান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাঁওতা গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারিবারিক সম্পর্ক ছিলো বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। কাস্টম মোড়ের বাড়িতে আসমা বেগম তার প্রথম পক্ষের শিশু সন্তান রবিনকে নিয়ে বসবাস করতেন। আসমা বেগম এএসআই সৌমেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। বছর দেড়েক আগে তাহের বিবাহ হয়েছিল। এরআগে এএসআই সৌমেন কুষ্টিয়ায় চাকরিরত ছিলেন। পরকীয়ার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পৈশাচিক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি। ধৃত ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।
কুষ্টিয়ার এসপি খাইরুল আলম জানান, আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। অপরাধীর পরিচয় অপরাধীই। অপরাধী যেই হোন না কেন তাকে চিহ্নিত করে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এএএম
