নওগাঁর পত্নীতলায় চলতি মৌসুমে উৎসাহ নিয়ে আমন ধান কাটা ও মাড়াই কাজ শুরু করেছেন কৃষকরা। তবে এই উৎসাহে বাদ সেধেছে বাজারে ধানের দাম। বাজারে ধানের দাম আশানুরূপ না থাকায় কৃষকদের মনে হতাশা ও সংশয় দেখা দিয়েছে।
উপজেলার কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বললে তারা জানান, সঠিক সময়ে এ বছর বর্ষায় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল ধানের কাঙ্কিত উৎপাদন হবে না। এ সময় ডিপ টিউবওয়েল ও শ্যালো দিয়ে কৃষকরা জমির ধান বাঁচিয়ে রাখে। বর্তমানে জমির ধান কেটে দেখা গেছে স্থানভেদে বিঘাপ্রতি ২০-২২মণ হারে ধান হয়েছে যা সন্তোষজনক।
গোয়াল গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, বাড়তি সেচ দিয়ে আমন ধান উৎপাদন করায় এবার ধানের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে বাজারে মণপ্রতি ধান বিক্রয় হচ্ছে ৬শত থেকে ৬শত ৫০ টাকায়। এই দামে ধান বিক্রয় করলে তাদের উৎপাদন খরচ উঠলেও লাভ হবে না। এছাড়াও মাঠ থেকে ধান কাটা ও মাড়াই এর জন্য শ্রমিকদের মণপ্রতি ৫-৬ মণ ধান দিতে হচ্ছে। সব খরচ বাদ দিলে দেখা যাবে কোন লাভ থাকবে না।
আরও পড়ুন: আদমদীঘিতে আওয়ামী লীগ নেতাকে জবাই করে হত্যা
গাহন গ্রামের কৃষক ফয়সাল বলেন, ধার-দেনা করে ও দোকান থেকে বাকী নিয়ে ধানের জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। ধান বিক্রয় করে দেনা শোধ করার কথা রয়েছে। কিন্তু ধানের আশানুরূপ দাম না পাওয়া গেলে দেনা পরিশোধ তো দুরের কথা জীবন ধারণও কঠিন হয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে পত্নীতলা উপজেলায় ২৭ হাজার ৭শত ৮০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ
