সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের পেছনে পারিবারিক কলহ ছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সেই তথ্য আরও যাচাই-বাছাই হচ্ছে।
এদিকে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে জমি ও পারিবারিক কলহ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। তবে ঘটনাস্থলের আলামত, হিফজুরের শরীরের আঘাত ও ফোন কলের বিষয়গুলো দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে হিফজুর স্ত্রী-সন্তানদের বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিজের শরীরে কিছু আঘাত করে মৃতের মতো পড়ে থাকার ভান ধরেন। হিফজুরের বক্তব্য নিতে পারলেই হত্যার এই জট অনেকটাই খোলাসা হবে।
বুধবার ভোরে গোয়াইনঘাট উপজেলার বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা হিফজুর রহমানের স্ত্রী আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসার (৫) উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় গুরুতর আহত অবস্থায় হিফজুর রহমানকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
সূত্র মতে হিফজুরের শ্যালিকার বিয়ের কথা ছিল ১৮ জুন। এই বিয়েতে যাওয়া নিয়ে আলেয়া বেগমের সঙ্গে হিফজুরের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার জের ধরে দুই শিশুসহ আলেয়াকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানায় পুলিশ। তবে পুলিশ তাদের ফোনকলসহ অন্যান্য বিষয় যাচাই করছে।
বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের হিফজুর রহমানের বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার ভিড়।
গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ সার্কেলের এএসপি (সার্কেল) প্রভাষ কুমার সিংহ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিফজুরের জ্ঞান ফিরলেও তার ডান উরুতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলার পর ঘটনার মূল রহস্য বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বুধবার দিবাগত রাতে নিহত আলেয়ার বাবা আইয়ুব আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন
ইত্তেফাক/ইউবি
