২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপের কথা। ব্যাঙ্গালুরুতে মুখোমুখি দুই প্রতিবেশি দেশ ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড। ইংলিশদের কাছে ধারে-ভারে পাত্তাই পাওয়ার কথা নয় আইরিশদের। অথচ ম্যাচশেষে সবার চোখ কপালে! দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে একাই ইংলিশদেরকে হারিয়ে দেন কেভিন ও’ব্রায়েন।
ওই এক ইনিংসেই আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের পোস্টার বয় বনে যান এই অলরাউন্ডার। সবমিলিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে তার পথচলাটা বেশ রঙীণ। তবে এবার ওয়ানডে জার্সিটা খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা। তবে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সংস্করণে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন কেভিন ও’ব্রায়েন।
অবসরবার্তায় তিনি বলেন, ১৫ বছর ক্রিকেট খেলার পর আমার মনে হয়েছে, এখন আমার ওয়ানডে থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। ১৫৩টি ম্যাচে আমি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি, এতেই আমি গর্বিত। দেশের হয়ে খেলার এই সুখস্মৃতি আমার সারাজীবনের সঙ্গী হবে।
২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় তার। এরপর খেলেছেন ১৫৩টি ওয়ানডে। করেছেন ৩৬১৮ রান। পাশাপাশি নিয়েছেন ১১৪টি উইকেট। কেভিন ও’ব্রায়েন আয়ারল্যান্ডের ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বোলার। পাশাপাশি ৬৮টি ক্যাচও নেন তিনি, যেটি তার দেশের পক্ষে সর্বোচ্চ।
২০০৭ বিশ্বকাপেও নিজের জাত চেনান কেভিন। পাকিস্তানকে হারানো ম্যাচে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে তিনি খেলেন ৫২ বলে ১৬ রানের দৃঢ়চেতা এক ইনিংস।

তবে তার সেরা কীর্তিটা ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ইনিংসটা। ইংলিশদের দেয়া ৩২৮ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে এই আইরিশ তারকা খেলেন ৬৩ বলে ১১৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। যেখানে তিনি সেঞ্চুরি হাঁকান মাত্র ৫০ বলে। যেটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের এখন পর্যন্ত দ্রুততম সেঞ্চুরি।
ইত্তেফাক/এএএন
