স্বামী-সংসার ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গৃহবধূর চিঠি

আপডেট : ২০ জুন ২০২১, ০৯:২৯

ভালোবেসে বিয়ে করেন আফসা নাজ। কিন্তু পাঁচ বছর আগে বেছে নেওয়া জীবনসঙ্গী স্বামী-সংসারের ভালোবাসা ও অধিকার থেকে আজ তিনি বঞ্চিত। জীবনসঙ্গী স্বামীর বাড়িতে পড়ে থাকলেও তার পাশে নেই স্বামী। এখন সুখের সংসারে নেমে এসেছে কালো মেঘের ঘনঘটা। তাই ঐ গৃহবধূ তার স্বামী ও সুখের সংসার ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

No description available.

সৈয়দপুর শহরের হাওয়ালদারপাড়ার ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিনের মেয়ে আফসা নাজ। পাঁচ বছর আগে রংপুর কারমাইকেল কলেজে অনার্সে অধ্যয়নকালে সহপাঠীকে ভালোবাসেন। একই শহরের নতুন বাবুপাড়ার ব্যবসায়ী আকতার হোসেনের ছেলে রিজওয়ান আকতারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে গত ১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয় তার। কিন্তু অপবাদ তুলে গত ৭ মার্চ তাকে একতরফাভাবে তালাক দেন। গত ১৮ এপ্রিল সৈয়দপুর পৌরসভা মেয়রের সালিশে গৃহবধূ নাজ ও তার স্বামী ছাড়াও উভয়পক্ষের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে অভিযোগের বিষয়ে কোনো সত্যতা না পেয়ে নাজকে স্বামীর দেওয়া একতরফা তালাক নোটিশ অকার্যকর করা হয়। ঐ দিনই সৈয়দপুর পৌর পরিষদ গৃহবধূকে তার শ্বশুরবাড়িতে তুলে দিয়ে আসেন।

এ ঘটনার পরেই স্বামী রিজওয়ান আকতার লাপাত্তা হন। তার স্বামীর মোবাইলফোনটিও বন্ধ। তার ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরাও মুখ খুলছেন না। স্বামীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তার সঙ্গে করা হয় চরম দুর্ব্যবহার। এ অবস্থায় গত ১৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে মা সংবোধন করে লিখেছেন— ‘তিলে তিলে মরে যাওয়ার আগে আমার মাকে সব কথা বলে যেতে চাই। আমার স্বামী সমাজের দুষ্ট মানুষের সংস্পর্শে জড়িয়ে যাওয়ায় আমি তাকে হারিয়ে ফেলতে বসেছি। আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, একা একা লড়েছি। কিন্তু আর পারছি না মা। দুই মাস থেকে চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি। একাকী জীবনযাপন। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে আমি এখন বেহায়া। আমার খুব ভয় হয় মা। এভাবে যুদ্ধ করতে করতে পরাজিত সৈনিকের মতো একদিন কি আমার নিথর দেহটা মাটিতে পড়ে থাকবে? আমি পিত্রালয়ে যেতে চাই না। আমি আমার স্বামীকে নিয়ে সংসার গোছাতে চাই। আমার স্বামীকে ফিরে পাব কি মা?’ এ ব্যাপারে রিজওয়ানের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

ইত্তেফাক/কেকে