তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে দুই উপজেলার মধ্যবর্তী আমিজনগর মোড়া এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। গুরুতর আহতদের ভাঙ্গা, ফরিদপুর, রাজৈর ও মাদারীপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভাঙ্গা ও রাজৈর থানাপুলিশ এবং মাদারীপুর থেকে র্যাব-৮ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে ও ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার চরসারিস্তাবাদ গ্রামের অটো মেকানিক জাহাঙ্গির সপ্তাহখানেক আগে ভাঙ্গা উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের অটো মেকানিক আক্কাচের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকায় একটি চার্জিং মেশিন ক্রয় করে। এর পর থেকে ঐ চার্জিং মেশিনটি আক্কাচ জাহাঙ্গিরকে দিই-দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকে। এই নিয়ে তাদের দুই জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কথা-কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে মারামারি হয়। শুক্রবার সকালে ভাঙ্গা উপজেলার আমিজনগর মোড়া এলাকার মাদবররা রাজৈর উপজেলার চরসারিস্তাবাদ বাজারের মাদবরদের কাছে গিয়ে দুই মেকানিকের মারামারির ঘটনার বিচার চাইতে যান। তখন চরসারিস্তাবাদের মাদবররা আমিজনগর মোড়া এলাকার মাদবরদের অপমান করে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই ভাঙ্গা ও রাজৈর উপজেলার ২০ গ্রামের বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ঢাল, সরকি, ট্যাটা, ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের ৫০ জনেরও বেশি লোক আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে খালের দুই পাড়ের বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট হয়। পরে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। ভাঙ্গা থানার অফিসার ওসি সৈয়দ লুত্ফর রহমান জানান, আমরা ও রাজৈর থানাপুলিশ খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। এক পর্যায়ে আমরা ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও ছয়টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করে দিই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হই। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
