কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্য পূরণে অবিচল সরকার ------------ পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট : ২৬ জুন ২০২১, ০০:৩২

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্য পূরণে অবিচল থেকে কাজ করছে সরকার। বিগত ১২ বছরে একটি চমত্কার পথরেখা দিয়ে আমরা এসেছি। আমাদের মূল দায়িত্ব ছিল পৃথিবীর অন্য মানুষের মতো ভদ্রভাবে বাস করার একটি সুযোগ তৈরি করা। আমরা বোধ হয় সে পথে আছি। যদিও আমি স্বীকার করব যে গতিতে আমরা আশা করেছিলাম সে গতিতে আমরা পারিনি।

গতকাল শুক্রবার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কি বৈষম্যমূলক পুনরুদ্ধারের পথে?’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন বাজেট ব্যবসাবান্ধব হয়েছে। কিছু এরিয়া পলিশ করার প্রয়োজন আছে। বাজেটের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো বিগত বছরগুলোতে যে মোমেন্টাম আমরা অর্জন করেছি তা ধরে রাখা।’ পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা অর্থমন্ত্রীও সেরা বাজেট দিতে পারেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির যে মডেলে আমরা এগোচ্ছি তাতে বলা যায় আমরা সঠিক পথেই রয়েছি।

প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে আয়োজিত মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন, সাবেক মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ পারভেজ ইমদাদ, এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক শাহেদুল ইসলাম হেলাল, বারভিডার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হক এবং ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পারভেজ করিম আব্বাসী। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর চেয়ারম্যান ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ওয়েবিনারটির সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুক্ত বাজার অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাজেটের বরাদ্দ হয়ে পড়েছে গোষ্ঠীতান্ত্রিক, যার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাজার মূল্য ধারণাটির অধঃপতন হয়েছে, এই বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। বাংলাদেশে একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক মডেল দাঁড়িয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে সম্পদ কেবল এক শতাংশ মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হবে এবং দেশে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা চলমান থাকবে।

আলোচনার শুরুতে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মহামারিকালীন মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে বলেন, চলতি বছরেই বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যয় সবচেয়ে সংকুচিত হয়েছে। অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়ছে, ফলে পুনরুদ্ধারের গতিপথ ব্যাহত হচ্ছে। সম্পদ চলে যাচ্ছে একশ্রেণির মানুষের হাতে, প্রান্তিক হয়ে পড়ছে অন্য শ্রেণি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ ১৩ শতাংশ বাড়লেও মাথাপিছু ভাতার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোষ্ঠী স্বার্থ চিন্তা না করে সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বার্থ চিন্তা করলেই বৈষম্যমূলক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তিনি বলেন, বাজেটে বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো নীতি চোখে পড়েনি। দেশে আয় থাকলেও নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। যার ফলে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যে আশা ছিল, তা সংকটের মুখে পড়ছে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বাজেট প্রণয়ন করা সমীচীন। অথচ বাংলাদেশে বাজেট নিয়ে আলোচনা করা হয় পেশাজীবীদের সঙ্গে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে। ফলে বাজেট হয় পুরোনো অর্থবছরের বাজেটের ধারাবাহিকতা মাত্র। বাজেট প্রস্তাবিত হওয়ার পরেও বাজেট নিয়ে মুক্ত আলোচনার সুযোগ থাকে না। বাজেট বাস্তবায়নেও জবাবদিহিতা এবং স্বছতার অভাব থেকে যায়। ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বিভাজন ব্যবস্থা রয়ে গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে কর্পোরেট করের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে দেশের অর্থনীতিকে আরো বিভাজনের দিকে ঠেলে দেওয়া। সভাপতির বক্তৃতায় ড. মনজুর আহমেদ চৌধুরী শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটকে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বাজেট প্রণয়নের অর্থবছরকে পরিবর্তন করার আহ্বান জানান।