চট্টগ্রামে ডা. মোস্তফা মোরশেদ আকাশকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল ইমরান খানের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে শনিবার মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার এসআই আবদুল কাদের।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী মো.শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, সোমবার মিতুর রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন পূর্বনির্ধারিত জামিনের আবেদন করা হলেও রিমান্ড হওয়ায় জামিন শুনানি হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মো. মিজানুর রহমান জানান, ডা. আকাশের আত্মহত্যায় স্ত্রী মিতুর প্ররোচনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আকাশ তার পোস্টে মিতুর যেসব ছেলেবন্ধুর নাম বলে গেছেন, তাদের বিষয়েও পুলিশ তদন্ত করবে।
গ্রেফতার মিতুর প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, আমানত শাহ মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ডা. আকাশের ব্যক্তিগত মুঠোফোনটিও জব্দ করা হয়েছে। দুটি মোবাইলই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরো পড়ুন : সিবিআই নিয়ে উত্তপ্ত ভারতের সংসদ, নজিরবিহীন বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন আত্মহত্যাকারী চিকিৎসকের মা জমিরা খানম। মামলায় মিতু, তার বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা এবং আমেরিকা প্রবাসী এক বোন ও মিতুর দুই ছেলে বন্ধুকে আসামি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার ভোরে আত্মহত্যা করেন ডা. আকাশ। আত্মহত্যার আগে ফেসবুকে নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এনে পোস্ট দেন। পোস্টের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার গোপন মুহূর্তের আপত্তিকর কিছু ছবি ও এসএমএসের স্ক্রিন শট দেন। এছাড়া আত্মহত্যার জন্য নিজের স্ত্রীকে দায়ী করেন। পাশাপাশি দায়ী করেন শ্বশুর শাশুড়িকে। ইতোমধ্যে সেই সব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি

