রাবি প্রক্টরের ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে হল প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৪০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে অনধিকার চর্চা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আলী আসগর। সোমবার সকালে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন। পরে দুপুরে হলের টেলিভিশন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি জানান।

এদিকে বিকেল ৫টার দিকে প্রক্টরের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর  অধ্যাপক লুৎফর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘শুক্রবার আমি ও একজন আবাসিক শিক্ষক হলে গিয়ে জানতে পারি ১২০ নম্বর কক্ষে জনি মিয়া নামে এক অনাবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। হলকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমরা ওই অবৈধ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দিই। এ সময় জনি মিয়ার আচরণ ছিলো ঔদ্ধত্যপূর্ণ এবং সে হল থেকে বের না হওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিতে থাকে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসে মতিহার হল প্রশাসনকে অবহিত না করে জনিকে ১২০ নম্বর কক্ষে তুলে দেয়। বিষয়টি সেই রাতে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীর মাধ্যমে ও পরবর্তীতে প্রত্রিকায় প্রকাশিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হই। প্রক্টরের অনধিকার চর্চা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে এখন জনি মিয়া হলে অবস্থান করা আমার পক্ষে নৈতিকভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্য আমি পদত্যাগ করছি।’

আরো পড়ুন: পরকীয়ার অভিযোগ এনে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সোমবার বিকেলে প্রক্টর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাবি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় মতিহার হল গেটে তালা দিয়ে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছে এমন খবর পেয়ে আমি প্রক্টরিয়াল বড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। তবে সেখানে হল কর্তৃপক্ষের কেউ না থাকায় আমরা হলের ভিতরে প্রবেশ করতে পারছিলাম না। পরে হলের আবাসিক শিক্ষক মো.নুরুজ্জামানসহ প্রক্টরিয়াল বডি হলে প্রবেশ করে। ভিতরে গিয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে জানতে পারি হলের ১২০ নম্বর কক্ষের সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সূত্রপাত। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রাধ্যক্ষ মহোদয়কে আমি, সহকারী প্রক্টর এবং আবাসিক শিক্ষক বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেন নি। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পরবর্তী কার্যদিবসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে ছাত্ররা মেনে নেয়। ওই ছাত্রকে হলে উঠার অনুমতি কিংবা হলে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একই সাথে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আরো পড়ুন: ‘জেনা করা পাপ’ বললেন পর্নস্টার নাদিয়া আলি

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার রাবির মতিহার হল থেকে অনাবাসিক শিক্ষার্থী জনি মিয়াকে ১২০ নম্বর কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ায় হল কক্ষে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের এই জনি ছাত্রলীগ কর্মী বলে জানা যায়। প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষ ও ছাত্রলীগের বিপরীতমুখী অবস্থানের ফলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘ওই রুমে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে উঠানো হয়। পরে হলের প্রাধ্যক্ষ পুলিশ নিয়ে এসে তাকে বের করে দেয়। প্রক্টরকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ওই শিক্ষার্থীকে রুমে তুলে দেন।’

ইত্তেফাক/বিএএফ