তিউনিসিয়ার পার্লামেন্ট ভেঙে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্ত 

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২১, ১৫:৩১

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাইয়েদ পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়াসহ প্রধানমন্ত্রী হিশাম মেচিচিকে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছেন। করোনাভাইরাস ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে চলমান গণবিক্ষোভের মুখে রোববার তিনি এই ঘোষণা দেন।

এদিকে ওই দিন সকালে হাজার হাজার তিউনিসিয়ান বিভিন্ন শহরে মধ্যপন্থী ইসলামি দল এন্নাহদা পার্টির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। তাদের অভিযোগ সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবেলাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট তার প্রাসাদে জরুরি বৈঠকে তার এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণার পর রাস্তায় রাস্তায় আতশবাজি ও গাড়ির হর্ণ বাজিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে লোকজন। 

Tunisia's president accused of 'coup' after dismissing PM | Protests News |  Al Jazeera

এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কায়েস সাইয়েদ বলেছেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ভন্ডামি, বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বহু মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। তিনি সহিংস প্রতিক্রিয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছেন, কেউ সশস্ত্র আন্দোলনের কথা ভাবলে তাদের আমি সতর্ক করছি, কেউ গুলি চালালে সশস্ত্র বাহিনী তা বুলেটের মাধ্যমেই জবাব দেবে।

তিনি আরো বলেছেন, তার কাজ সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সংসদ সদস্যদের দায় মুক্তি স্থগিত করেছেন। তিউনিসিয়ার পার্লামেন্টের স্পিকার ও মধ্যপন্থী ইসলামি দল এন্নাহদা পার্টির প্রধান রাশেদ ঘানোচি এ পদক্ষেপের পর প্রেসিডেন্ট সাইয়েদের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লব ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান’ চালানোর অভিযোগ করেছেন।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনা মহামারি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে প্রেসিডেন্ট সাইয়েদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মেচিচির রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। করোনা মহামারির আগে থেকেই দেশটির চলমান দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সেবা হ্রাস, বেকারত্ব বৃদ্ধির ফলে অনেক তিউনিসিয়ান সরকারের রাজনৈতিক পদ্ধতি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। মহামারির পর সংকট আরো তীব্র রূপ নিলে জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।

ইত্তেফাক/এএইচপি