দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২১, ১৮:১৬

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে। পহেলা আগস্ট থেকে গার্মেন্টস খোলার খবরে ঢাকা ছুটছেন তারা। কিন্তু লকডাউনে অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার রুটের লঞ্চ, বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। বাধ্য হয়ে ট্রাকে, পিকআপে, নসিমন, করিমন, মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার এমনকি ভ্যানেও তারা রাজধানীর দিকে ছুটছেন কর্মজীবী মানুষ। 

দিনভর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পলিথিন টাঙিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। গার্মেন্টস খোলার খবরে শনিবার সকাল থেকে দক্ষিণের পথে পথে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত নেমেছে। সকালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয় ঢাকা যাবার জন্য। দক্ষিণের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যানে, রিক্সায়, পিকআপে, ট্রাকে যে যেভাবে পেরেছে বিভাগীয় সদর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছেছে। 

              

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম আরও বাড়তে থাকে। লকডাউনের কারণে সব ধরনের লঞ্চ-বাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন তারা। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে এক পর্যায়ে তারা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কে পণ্যবাহি ট্রাক চলাচলে বাঁধা দেয় এবং বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে নগরীর বিমান বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু সময়ের মধ্যে পণ্যবাহি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে। 

এ সময় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা জানান, ‘সরকার পহেলা আগস্ট থেকে শিল্প কলকারখানা খুলে দিয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, শিল্প মালিক কর্তৃপক্ষ তাদের যথা সময়ে শ্রমিকদের কারখানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এ কারণে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছেন।’ 

                

বরগুনা জেলার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় টেকনিশিয়ান পদে কাজ করি। কর্মস্থল থেকে জরুরী ডাক এসেছে। বরগুনা থেকে বরিশাল পর্যন্ত আসতে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার, মাহিন্দ্র, সিএনজি আর ট্রাকের পিছনে এখন ঘুরছি। জিম্মি করা ভাড়া চাইছে এসব যানবাহনের চালকরা। পোশাক কারখানা খোলার আগে আমরা কিভাবে গন্তব্য স্থলে পৌঁছাবো সেই বিষয়টির দিকে সরকারের নজর দেয়া উচিৎ ছিলো।’ 

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনও রয়েছে। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার কয়েক লাখ মানুষ ঢাকার বিভিন্ন শিল্প কলকারখানায় চাকুরি করেন। গেল ঈদের সময় ৪ দিনের জন্য লকডাউন শিথিল করায় তাদের বেশীরভাগ মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এখন দুর্ভোগ সাথে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন তারা। 

ইত্তেফাক/এসআই