রাজশাহীতে পানির দামে পান বিক্রি

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৮:১৩

দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে গণপিরবহন। ফলে পাইকার না আসতে পারায় পান বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। ক্রেতা না থাকায় নাম মাত্র মূল্যে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। চাষিদের দাবি, উৎপাদন খরচও উঠছে না।

স্থানীয় পান চাষিরা জানান, রাজশাহীর মোহনপুর পান চাষের জন্য আগে থেকেই বিখ্যাত। পান চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছিল পানের বরজ। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, মোহনপুর উপজেলায় ১ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে ১৪ হাজার ৪০০ পান বরজ রয়েছে। দেখতে ও স্বাদে ভালো হওয়ায় এই এলাকার পানের চাহিদা দেশজুড়ে। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয় রাজশাহীর পান। প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বসে পানের হাট। এসব হাট-বাজারে পান নিয়ে যান চাষিরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররাও আসেন পান কিনতে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতি জনিত কঠোর লকডাউনে পাইকারি ব্যবসায়ীরা হাটে না আসতে পারায় পান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

    

মোহনপুর উপজেলার তাঁতীপাড়ার পান চাষিরা বলেন, ‘এই এলাকার মানুষের মূল পেশা পান চাষ। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা সংকটের মধ্যে রয়েছি। মৌসুম শেষ হওয়ায় পান বরজেও রাখতেও পারছি না, রাখলে পান মোটা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার হাট-বাজারে পানের দাম খুব কম। ফলে পান বিক্রিও করতে পারছি না। এতে করে উৎপাদন খরচই উঠছে না। ফলে বরজে যেসব শ্রমিক কাজ করছেন, তাদের মজুরিও ঠিকমতো দিতে পারছি না।’

  

মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রহিমা খাতুন বলেন, ‘উৎপাদন খরচ কম ও অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় উপজেলায় পানের আবাদ দিন দিন বাড়ছে। দাম কম থাকলেও পানের বর্তমান অবস্থা ভালো, কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পানের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়।’  

ইত্তেফাক/এসআই