নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি এতিমখানায় রাতের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে নূর হাদি নিশান (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অসুস্থ আরও ১৭ ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার একলাশপুর মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ ১৭ শিশুকে রাতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত নিশান একলাশপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়া ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, এতিমখানায় শিশুরা রাতের খাবার খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৮ জন অসুস্থ শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একটি শিশু আগেই মারা যায়। ১৭ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, চিকিৎসাধীন শিশুদের মধ্যে পারভেজ হোসেন মিরাজের(১০) অবস্থা গুরুতর। অন্যরা সুস্থ আছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুরা হলো, মেহরাজ (১২), শিপন (১২), শান্ত (১০), নুর হোসেন (১০), রিফাত (৯), মামুন (১১), মারুফ (১০), আলিফ (১০), মামুন (১০), শাহীন (১০), আরমান (১০), সোহাগ (১০), আশিক (১২), আবদুর রহিম (৮), সামির (১০) ও মোজাম্মেল (১০)।
এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ভোর রাতে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ৬ জন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার জনান, এ ঘটনায় শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
জানাযায়, সোমবার দুপুরে এতিমখানার ছাত্রদের জন্য গরুর মাংস রান্না করা হয়। দুপুরে রান্না করা গরুর মাংস রাতে ছাত্রদের খেতে দেওয়া হয়। প্রথম ব্যাচে ২০ জন খেতে বসে। খাবার শুরু করার পর শিক্ষার্থীদের কাছে মাংস দুর্গন্ধ অনুভূত হলে তারা আর মাংস খায়নি। ভাতের সঙ্গে থেকে যাওয়া ঝোল দিয়ে খাওয়া শেষ করে।
এর কিছুক্ষণ পর শিশুরা একে একে অসুস্থ হতে থাকে ও বমি করা শুরু করে। তাৎক্ষণিক শিক্ষকরা স্থানীয় একজন চিকিৎসককে ডেকে এনে ঘটনা জানালে তিনি অসুস্থ শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। শিক্ষকেরা অসুস্থদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশানকে মৃত ঘোষণা করেন।
মাদ্রাসা ও এতিমখানাটিতে ১২০ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৬১ জন এতিম শিশু রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআর
