জান্তার ‘গণহত্যা’ নিয়ে জাতিসংঘে মিয়ানমারের দূতের অভিযোগ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২১, ১০:৪৮

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার ‘গণহত্যা’ নিয়ে জাতিসংঘকে সতর্ক করেছেন দেশটির বিশেষ দূত কিয়াউ মোয়ে তান। তিনি এ বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপরেই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সাহসী বক্তব্য রাখায় কিয়াউ মোয়ে তানকে বরখাস্ত করা হয়। তবে তিনি তার পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে কিয়াউ মোয়ে তান জানান, গত জুলাই মাসে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগেইং এলাকার কানি থেকে ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিয়ানমার জেনারেলরা। কিয়াউ মোয়ে তান অভিযোগ করেছেন যে, গত ৯ ও ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সেনাসদস্যরা একটি গ্রামে নির্যাতন, নিপীড়ন চালায় এবং সেখানে ১৬ ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়।

Violence in Myanmar's Rakhine state leaves at least 89 dead

এরপরেই ঐ এলাকা থেকে ১০ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। গত ২৮ জুলাই ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরসহ আরো ১১ জনকে হত্যা করা হয় এবং গ্রামে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন কিয়াউ মোয়ে তান।

জাতিসংঘ প্রধানকে লেখা চিঠিতে জান্তা সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন কিয়াউ মোয়ে তান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের পক্ষ থেকে মিয়ানমারে জরুরি ভিত্তিতে মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি। কিয়াউ মোয়ে তান আরো বলেন, জাতিসংঘ, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়।

গত ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করে যাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলছে, বিক্ষোভ-প্রতিবাদে অংশ নেওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযানে এখন পর্যন্ত ৯ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতার হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।

ইত্তেফাক/টিআর