দখলকৃত এলাকায় স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ করেছে তালেবান

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২১, ২০:৩৮

২০০১ সালে তালেবান শাসনের অবসান হওয়ার পর আফগানিস্তানের বড় অর্জনগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে গণমাধ্যমের সমৃদ্ধি। তবে বর্তমানে দখলকৃত এলাকায় জঙ্গি গোষ্ঠীটি কয়েক ডজন স্থানীয় রেডিও স্টেশন, সংবাদপত্র এবং সম্প্রচারকারীদের জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে।

এছাড়া তালেবানদের প্রতিশোধের ভয়েও অনেক সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের অনেক সাংবাদিক তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে অথবা মাটির নিচে চলে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক ডজন সাংবাদিক এবং গণমাধ্যম কর্মীদের হত্যার জন্য তালেবানকে দায়ী করা হয়েছে।

যে কয়েকটি আউটলেটকে পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তারা তালেবানদের প্রোপাগান্ডা প্রচার করতে বাধ্য হয়েছে। তাদের সঙ্গীত বা নারীদের কণ্ঠ প্রচার করতে নিষেধ করা হয়েছে। আগের প্রতিবেদনের স্থানে তালেবান-অনুমোদিত বুলেটিন, কোরান থেকে তিলাওয়াত, এবং ইসলামী খুতবা প্রচারিত হচ্ছে।

পুনরায় তালেবানদের দমন মূলক আইন প্রয়োগ

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে উত্তর পাকিস্তানে এই তালেবান আন্দোলনের জন্ম। ধারণা করা হয়, মাদ্রাসাগুলোতে প্রথম এরা সংগঠিত হয়। এই মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হতো সৌদি অর্থে - এবং সেখানে খুবই কট্টর সুন্নী মতাদর্শের ইসলামই প্রচার করা হতো।

Taliban Captures First Provincial Capital; Senior Media Official Gunned Down  In Kabul

১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা ইরান সীমান্তবর্তী আফগান প্রদেশ হেরাত দখল করে নেয়। আর এর ঠিক এক বছর পর তারা আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে।

তারা প্রেসিডেন্ট বুরহানউদ্দীন রাব্বানির সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে নিজেদের সরকার প্রতিষ্ঠা করে। ১৯৯৮ সাল নাগাদ তালেবান আফগানিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ অঞ্চলে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

তালেবানের প্রথম দিকের জনপ্রিয়তার মূলে ছিল কয়েকটি বিষয়: তারা দুর্নীতি দমনে সাফল্যে দেখিয়েছিল, আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছিল, তারা তাদের নিয়ন্ত্রিত রাস্তা দিয়ে এবং অঞ্চলে নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছিল।

তবে তালেবান একই সঙ্গে তাদের জারি করা কঠোর শরিয়া শাসনের অধীনে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো শাস্তি চালু করে। অপরাধী কিংবা ব্যাভিচারীদের প্রকাশ্যে হত্যা করা হতো, চুরির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হাত কেটে নেয়া হতো। আর পুরুষদের দাড়ি রাখা এবং মেয়েদের পুরো শরীর ঢাকা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়।

তালেবান টেলিভিশন, সঙ্গীত এবং সিনেমা নিষিদ্ধ করে। দশ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই বলে নিয়ম জারি করে।

তালেবানের বিরুদ্ধে বহু ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের অভিযোগ উঠে। তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ কাণ্ড ছিল ২০০১ সালে আফগানিস্তানের মধ্যাঞ্চলে বিখ্যাত বামিয়ান বুদ্ধের মূর্তি ধ্বংস করা। এর বিরুদ্ধে তখন আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার ঝড় উঠেছিল।

Taliban capture key Afghanistan border crossings - BBC News

সাম্প্রতিক সময়েও তালেবানরা ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত এ ঘটনা গুল ঘটাচ্ছিলো তারই পুনরাবৃতি ঘটাচ্ছে। এঘটনায় বেশি আতংকিত আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণ। তারা বলছেন, এই নীতিগুলির অনেকগুলি এখন তালেবান নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ফিরে এসেছে।

ইত্তেফাক/এসএ