সিটিও ফোরাম ইনোভেশন হ্যাকাথনের নিবন্ধন শুরু

আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২১, ১৭:১২

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় বাস্তবধর্মী ৬টি সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে তথ্য প্রযুক্তিবিদদের সংগঠন সিটিও ফোরাম আয়োজন করেছে ‘সিটিও ফোরাম ইনোভেশন হ্যাকাথন ২০২১’। গত ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এর নিবন্ধন প্রক্রিয়া। চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। যে কোন বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট “ctoforumbd.org” থেকে নিবন্ধন করতে পারবে।

সিটিও ফোরামের সাথে এই আয়োজনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের আইসিটি বিভাগের দুইটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি এবং এস্প্যায়ার টু ইনোভেট বা এটুআই।

“খুদা মুক্ত বিশ্ব, সুস্বাস্থ্য, গুনগত শিক্ষা, ই-কমার্স, এমার্জিং টেকনোলজি, ভার্চুয়াল এসিস্টেন্স, অনলাইন সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশন” এমন ৬টি চ্যালেঞ্জ ও ৩টি সাব চ্যালেঞ্জ নিয়ে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের ভার্চুয়াল ইনোভেশন হ্যাকাথন। তিন রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা। ধারণা উপস্থাপনের পর ১৮ সেপ্টেম্বর জমা দিতে হবে উদ্ভাবনার প্রোটোটাইপ। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত করা হবে সেরা উদ্ভাবন। অংশগ্রহণকারি বিজয়ীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় আর্থিক পুরস্কার ও একই সাথে দেশের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ।

ট্রান্সফরমেশন, এম্পাওয়ারমেন্ট, ইমপ্লয়মেন্ট স্লোগানে শুরু হওয়া এ ভার্চুয়াল হ্যাকাথনের নিবন্ধন প্রক্রিয়ার শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ৫ আগস্ট এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে।

ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়ে সিটিও ফোরামের সভাপতি তপন কান্তি সরকার বাংলাদেশ গোল্ডেন ডিভিডেন্ট যুগে রয়েছে, মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এই তরুণদেরকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে তাদের এই সকল ইনোভেটিভ আইডিয়াকে সঠিক নার্সিং করা যায় তবেই হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। তাই দেরি না করে নিজেদের আইডিয়াগুলোকে সামনে নিয়ে আসতে এবং এসকল আইডিয়ার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এই ইনোভেশন হ্যাকাথনে অংশগ্রহণ করার জন্য বলেন।

তিনি বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি এবং এস্প্যায়ার টু ইনোভেট এটুআই সরকারের এই দুই প্রতিষ্ঠানকে আয়োজনের অংশীদার হওয়ায় একই সাথে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত হওয়ায় একাত্তর টিভি ও দৈনিক ভোরের কাগজকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ইনোভেশন হ্যাকাথনের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ডঃ সৈয়দ আখতার হোসেন পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশানের মাধ্যমে হ্যাকাথনের সার্বিকদিক তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও আইসিটি ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব ড. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে ডিজিটাল হিসেবে পরিণত করতে এই ইনোভেশন হ্যাকাথন একটি মাইল ফলক হয়ে থাকবে, তিনি ইনোভেশন হ্যাকাথনের পার্টনার হিসেবে হাইটেক পার্ক থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদানের কথা বলেন। ই

নোভেশন হ্যাকাথনের মিডিয়া পার্টনার দৈনিক ভোরের কাগজের প্রধান সম্পাদক শ্যামল দত্ত সুদূর আমেরিকার সিলিকন ভ্যালীর এক আইটি রোডশো থেকে যোগদান করেন, এবং সেখানকার টেকনোলজিগুলোকে এডাপ্ট করার জন্য এই ইনোভেশন হ্যাকাথনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আরেক মিডিয়া পার্টনার একাত্তর টিভির সম্পাদক এবং এডিটরস গিল্ড এর সভাপতি মোজাম্মেল বাবু সংযুক্ত হয়ে তিনি উদ্যক্তা তৈরি করতে উদ্ভাবনকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন।

এস্পায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং সিটিও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আরফে এলাহী মানিক তার বক্তব্যে সরকারের প্রায় ২ হাজারের ও অধিক সকল সেবাগুলোকে ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসতে ইনোভেশন প্রক্রিয়ার আবশ্যিকতা তুলে ধরেন এবং সেই কারণে এই ইনোভেশন হ্যাকাথনে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ এর সাথে বাংলাদেশ সরকারের এটুআই প্রকল্পের এর যোগবন্ধনের গুরুত্ব প্রকাশ করেন। তিনি সিটিও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সকলকে আহ্বান করেন এই ইনোভেশন হ্যাকাথনে নিবন্ধন করে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জুমের মাধ্যমে সিটিও ফোরামের কার্যনির্বাহী ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ সহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন। সিটিও ফোরামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে ভার্চুয়াল সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি