ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে ত্রিপুরা রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার তিনি এ অভিযোগ করেন।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ত্রিপুরা থেকে ফেরা আহত তৃণমূল নেতানেত্রীদের দেখতে গতকাল সোমবার সকালে এসএমকেএম হাসপাতালে যান মমতা। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, ছাত্রনেতা সুদীপের মাথায় আঘাত লেগেছে, সবাই কমবেশি আহত।
তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীদের ওপর পাথর ছোড়া হয়েছে। গুলি চালানো হয়েছে। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এরপর ৩৬ ঘণ্টা কোনো চিকিত্সা হয়নি। এমনকি পানিও দেওয়া হয়নি। পুলিশের সামনেই এই হামলা হয়েছে। কিন্তু হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘অমিত শাহের নির্দেশেই সবকিছু হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের এত সাহস নেই। দানবীয় দল বিজেপি ত্রিপুরা চালাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে আমরাই ত্রিপুরায় জিতব।’
গত শনিবার ত্রিপুরায় বিক্ষোভ, জমায়েতের কারণে তৃণমূলের ১৪ জন নেতাকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। পরদিন রবিবার সকালে ত্রিপুরায় যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। ঐ দিন বিকেলেই জামিন পান তৃণমূল নেতারা। এর আগে গত সপ্তাহে ত্রিপুরা সফরে গেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িবহরে হামলা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জন্য ভাতিজা অভিষেকের জীবন ‘বিপন্ন’ হতে চলেছে। অমিত শাহের নির্দেশেই সারাক্ষণ অভিষেকের সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে রয়েছে বিজেপির গুন্ডারা। চারপাশ থেকে গুন্ডারা ঘিরে ধরায় অভিষেকের জীবন হুমকিতে। ত্রিপুরায় অভিষেকের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, নানা রকম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অভিষেক বিমানে কোথাও গেলে তার পাশের পাঁচটা আসন বুক করে গুন্ডা তুলে দেওয়া হচ্ছে। অভিষেকের জীবন বিপন্ন। এর আগে নির্বাচনের সময়ও অভিষেককে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মমতা।
তবে মমতা ও তৃণমূলের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিজেপি। দলটির এক নেতা বলেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপরেই থাকে। সেখানে কেন্দ্র কোনো নির্দেশ দেয় না।
এদিকে ত্রিপুরায় তৃণমূল নেতাদের ওপর হামলা ও তাদের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধর্ণায় বসেন তৃণমূল এমপিরা। ত্রিপুরায় গণতন্ত্রের হত্যা হয়েছে বলে সোমবার ধর্ণায় অভিযোগ করেন তৃণমূল এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইত্তেফাক/টিএ
