আফগানিস্তান রক্ষার দায়িত্ব দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২১, ২১:৩৬

আফগানিস্তানকে রক্ষা করা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার তালেবান সীমান্ত শহর ও বাণিজ্যিক রুটগুলোসহ দেশটির ষষ্ঠ প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ মন্তব্য করা হয়। 
 
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সোমবার বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় সামানগান প্রদেশের রাজধানী আইবাকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আইবাকের আইনপ্রণেতা জিয়াউদ্দিন জিয়া বলেন, ‘এই মূহুর্তে পুলিশ সদরদপ্তর ও প্রাদেশিক গভর্নরের কম্পাউন্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য আফগান বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়াই করছে তালেবান। তালেবানের কাছে  রাজধানীর অনেক এলাকার পতন হয়েছে।’ শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে তালেবান আফগানিস্তানের পাঁচটি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেয়; এগুলো হচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ নিমরোজের জারাঞ্জ, উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ সার ই পুল প্রদেশের সার ই পুল, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় তাখার প্রদেশের তালোকান, কুন্দুজ প্রদেশের কুন্দুজ এবং জাওজান প্রদেশের শেবারগান । এর মধ্যে কুন্দুজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগরী। কারণ, কুন্দুজের সঙ্গে অন্যান্য এলাকা বিশেষ করে রাজধানী কাবুলের খুব ভালো সংযোগ রয়েছে।

The Taliban in Afghanistan

তালেবানের একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াতে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন কিন্তু বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটির সঙ্গে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াই করার ক্ষমতা আছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) মুখপাত্র জন কিরবি মন্তব্য করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এরা তাদের সামরিক বাহিনী, এগুলো তাদের প্রাদেশিক রাজধানী, তাদের জনগণকে তাদেরই রক্ষা করতে হবে, এই বিশেষ মূহুর্তে এই অবস্থা থেকে তারা বের হয়ে আসতে ইচ্ছুক কিনা, তা তাদের নেতৃত্বের ওপর নির্ভও করছে।’ আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো লড়াই চালিয়ে যেতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কি করতে পারে, এমন প্রশ্নে কিরবি বলেন, “বেশি কিছু করার নেই।’

পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বাইডেনকে সতর্ক করে বলেছিল, সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলে প্রাদেশিক রাজধানীগুলোর পতন হতে পারে; কিন্তু তালেবান এত তাড়াতাড়ি সেগুলোর মধ্যে কয়েকটির দখল নিয়ে নেওয়ায় তারাও বিস্মিত হয়ে আছেন। শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে তালেবান তিনটি প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র কিছু বিমান হামলা চালিয়েছিল, একটি হামলায় শুধু কিছু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছিল। 

In Afghanistan, Follow the White High-Tops and You'll Find the Taliban -  The New York Times

এদিকে আফগানিস্তানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের তুমুল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গত তিনদিনে তিনটি প্রদেশে অন্তত ২৭ শিশু নিহত এবং শতাধিক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সোমবার শিশু হতাহতের এই পরিসংখ্যান দিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, শিশুর বিরুদ্ধে এমন সহিংসতা এবং অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তারা খুবই মর্মাহত। সংস্থাটি জানায়, গত তিনদিনে কান্দাহার, খোস্ত এবং পাকতিয়া প্রদেশে ২৭ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। আর এই তিন জায়গাতেই একই সময়ে আহত হয়েছে ১৩৬ শিশু। শিশুর বিরুদ্ধে নৃশসংতা দিন দিনই বাড়ছে। ইউনিসেফের আফগানিস্তান বিষয়ক প্রতিনিধি হার্ভি লুদভিক ডি লিস এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এগুলো কেবলমাত্র সংখ্যা নয়, প্রতিটি মৃত্যু এবং প্রতিটি শিশুর শারিরীক যন্ত্রণা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি। এই শিশুরা কারও আদরের কন্যা, করো পুত্র, ভাই, বোন, কাজিন কিংবা বন্ধু। আন্তর্জাতিক আইনে এই শিশুদের সবারই সুরক্ষিত থাকার অধিকার আছে। কিন্তু বিবাদমান পক্ষগুলো এই অধিকার লঙ্ঘন করছে।’

ইত্তেফাক/এএইচপি