আফগানিস্তানে আরও একটি প্রাদেশিক রাজধানীর দখল নিয়েছে তালেবান বাহিনী। আজ বুধবার তারা দেশটির উত্তরাঞ্চলের বাদাখসান প্রদেশের রাজধানী ফাইজাবাদ দখল করে নিয়েছে। এ নিয়ে মাত্র ছয় দিনে নয়টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করে নিল সংগঠনটি।
স্থানীয় একজন আইন প্রণেতার বরাতে আল জাজিরা জানায়, তালেবানের হাতে ফাইজাবাদের পতন হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে তালেবানের সঙ্গে তীব্র লড়াই চালানো সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গত রাতে তীব্র চাপে পড়েন। এখন তালেবান পুরো শহর দখলে নিয়েছে। দুই পক্ষেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সংঘাতে।
আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে দখল করা এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করতে শুরু করেছে তালেবান বাহিনী। উত্তরাঞ্চলের বড় শহর মাজার-ই-শরিফের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে তারা। ফাইজাবাদের পতনের পর এখন প্রচণ্ড চাপে রয়েছে মাজার-ই শরিফ।

এদিকে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি আজ বুধবার প্রায় অবরুদ্ধ উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফ সফরে গেছেন।
সর্বশেষ দেশটির ফারাহ প্রদেশের ফারাহ শহর দখলে নিয়েছে এই উগ্রবাদী গোষ্ঠী। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) এসব জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। এ নিয়ে পাঁচদিনের মধ্যে আটটি প্রাদেশিক রাজধানী দখলে নিলো তালেবান। ফারাহ প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য শাহলা আবুবার বলেন, আজ বিকেলে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সামান্য লড়াইয়ের পর ফারাহ শহরে ঢুকে পড়েন তালেবান যোদ্ধারা। তারা গভর্নরের অফিস ও পুলিশের সদর দপ্তর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
এদিকে নিজ নাগরিকদের প্রত্যাহারের জন্য উত্তর আফগানিস্তানে একটি সামরিক বিমান পাঠিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে ভারতীয় নাগরিকরা দেশে ফিরতে পারবেন বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এবং অগ্রসরমান তালেবানদের মধ্যে লড়াই চলতে থাকায় আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর মাজার-ই-শরিফ থেকে নিজ নাগরিকদের দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
তালেবানের একের পর এক প্রাদেশিক রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়াতে যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন কিন্তু বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটির সঙ্গে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর লড়াই করার ক্ষমতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) মুখপাত্র জন কিরবি।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এরা তাদের সামরিক বাহিনী, এগুলো তাদের প্রাদেশিক রাজধানী, তাদের জনগণকে তাদেরই রক্ষা করতে হবে, এই বিশেষ মূহুর্তে এই অবস্থা থেকে তারা বের হয়ে আসতে ইচ্ছুক কিনা, তা তাদের নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।’
ইত্তেফাক/টিআর
