সমুদ্রের বালিয়াড়িতে নামতে তর সইছে না পর্যটকদের

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ১২:৩০

১৯ আগস্ট থেকে শর্ত সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হচ্ছে পর্যটন স্পটগুলো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক কক্ষ ভাড়া দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে খোলা হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরা। পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোতে লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সৈকতের বালিয়াড়িতে কিটকট চেয়ারও সীমিত সংখ্যক বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রাদুর্ভাব চলছে। সংক্রমণ থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় সারাদেশের বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি গত এপ্রিল থেকে বন্ধ হয়ে যায় কক্সবাজারের হোটেল, রেস্তোরা ও পর্যটন স্পট। দীর্ঘ সাড়ে চারমাস পর বিধিনিষেধ ১১ আগস্ট হতে শিথিল হয়। ১২ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে ১৯ই আগস্ট হতে সকল ধরণের হোটেল, রেস্তোরা ও পর্যটন স্পট স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু শুরুর নির্দেশ দেওয়া হলেও কক্সবাজার সৈকত ও অন্যান্য পর্যটন স্পটে যেতে এখন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আছে।

১৯ আগস্ট খোলার ঘোষণা হলেও শুক্রবার থেকেই ভ্রমণ ও সমুদ্রপ্রেমীরা সৈকত এলাকায় ভিড় জমিয়েছেন। তবে, প্রশাসনিক নির্দেশনা না থাকার কারণে বিচকর্মী, টুরিস্ট পুলিশ ও লাইফ-গার্ড কর্মীরা সৈকত ভিড় করা পর্যটকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু পয়েন্টে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সৈকতে নেমে পড়েন ভ্রমণ প্রেমীরা।

সৈকতে হাটতে আসা চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার রাসেল দুর্জয় দম্পতি বলেন, অনেকদিন ঘর থেকে বের হতে পারিনি। বাচ্চাদের পাশাপাশি আমরাও হাঁপিয়ে উঠেছি। গতকাল টিভিতে শুনলাম পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হচ্ছে। সেই খুশিতে আজ (শুক্রবার) কক্সবাজার সৈকতে এসেছিলাম। কিন্তু ব্যারিকেটে প্রশাসনের লোকজন আমাদের নামতে দেয়নি। তারা মাইকিং করে বলছে ১৯ আগস্টের পর আসতে।

সৈকতে কাজ করা সি সেইফ লাইফ-গার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, আমরাও অকর্মণ্য বসে আছি। লক-ডাউনেও প্রতিদিন পালা করে আমরা সৈকতে এসেছি। বিচকর্মী, পুলিশের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি নিরবিচ্ছিন্ন। কিন্তু কোভিড-১৯ এর চলমান পরিস্থিতিতে গত বছরের মতো এবারও প্রায় পাঁচ মাস জনশূন্য সৈকতে খাঁ খাঁ বালিয়াড়িতে বসে থাকতে আমাদেরও খারাপ লাগছে। অনেকে প্রতিদিন সৈকতে এসে বালিয়াড়িতে নামতে চান। কিন্তু সরকারি নির্দেশনার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়।  

কক্সবাজার হোটেল অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হোয়াইট অর্কিড হোটেলের জিএম রিয়াদ ইফতেখার বলেন, জেলা প্রশাসন বলে দিয়েছে শুধুমাত্র জীবন ও জীবিকার তাগিদে যারা কক্সবাজার আসবেন তাদেরকেই হোটেলে রাখা যাবে। স্থাপনা যখন করা আছে তাতো ফেলে চলে যেতে পারছে না কেউ। তাই পূর্বের মতো পর্যটন সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল রেস্তোরাঁ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা শুরু করেছেন সবাই।    

কক্সবাজার গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য বিধি মেনে হোটেলের অর্ধেক কক্ষ ভাড়া দিতে। যেহেতু মহামারী সময় তাই, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরি। আমাদের অর্থলগ্নি আছে সেহেতু ব্যবসা সচল রাখা জরুরি। তেমনি আগত এবং অবস্থানরত সবাইকে নিরাপদ রাখা আরও জরুরি। যারা হোটেল আসবেন তাদের সচেতনামূলক পরামর্শ দিতে হবে সবার।  

কক্সবাজার বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সম্ভাবনার পর্যটনশিল্প করোনার কারণে ধুকছে। গত বছরের মতো চলতি বছরেও বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি সব ধরনের ব্যবসা সচল করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেভাবেই পর্যটনও সচল করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী, পর্যটক ও সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে সচেতনতা থাকলে আমরা ব্যবসা সুচারু করার পাশাপাশি করোনার প্রাদুর্ভাবও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো বলে আশা রাখছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে বলে উল্লেখ করেন ডিসি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি