তালেবান আগ্রাসনে অবশেষে মুখ খুললেন আফগান প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ১৭:১৯

প্রতিরোধ ভেঙে পড়ছে আফগানিস্তানের সরকারিবাহিনীর। যা কারণে একের পর এক এলাকা দখল করে নিচ্ছে তালেবান গোষ্ঠী। দেশটির ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৮টির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সশস্ত্র সংগঠনটি। এই ইস্যুতে অবশেষে মুখ খুললেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। আজ শনিবার জাতির সামনে ভাষণ দিয়েছেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত সাত দিনে দেশটির ৩৪টি প্রদেশের ১৮টির বেশিই দখল করে নিয়েছে তালেবান। এ সময়ের মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্টকে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। তবে অবশেষে মুখ খুললেন তিনি।

US, UK to launch evacuation flights as Taliban advance Afghanistan

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাষণে আশরাফ গনি তালেবানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সেনাদের তালেবানের বিরুদ্ধে এক্যবদ্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। সেইলক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন গনি। 

এক টেলিভিশন ভাষণে আশরাফ গনি বলেন, তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিলো আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনর্গঠন। যুদ্ধ-সংঘাতের কারণে বাস্তহারা হাজার হাজার মানুষকে সহায়তার উপায় খুঁজা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই। অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা এবং আমার দেশের জনগণের বাস্তুহারা হয়ে পড়া রোধ করার উপায় খুঁজে বের করা হবে। আমরা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সবার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করছি। খুব শিগগিরই এর ফল জানিয়ে আপনারা জানতে পারবেন।

How ready are the Afghan forces after US withdrawal?

এদিকে, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে তালেবান যোদ্ধারা। শহরের দক্ষিণে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করছে তারা। সেখানে লোগার প্রদেশের কেন্দ্র পুল-ই-আলম দখল করেছে তালেবান। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বিবিসিকে এসব জানিয়েছেন প্রাদেশিক আইন পরিষদের দুই সদস্য। এই শহরটির সঙ্গে কাবুলের সরাসরি সড়ক রয়েছে। এখন পুল-ই-আলমে চলছে তীব্র লড়াই।

তালেবানরা একের পর এক অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো দখল করে নেয়ায় রাজধানীতে নাগরিকরা বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন তাদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে শুক্রবার কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।

ওয়াশিংটন এবং লন্ডন বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী কাবুল থেকে দূতাবাস কর্মী এবং অন্যান্য নাগরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা কাবুলে আমাদের বেসামরিক লোকদের আরো কমিয়ে আনছি।’কাবুলে মার্কিন দূতাবাস খোলা থাকবে কিনা সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রাইস বলেন, ‘দূতাবাস ত্যাগ নয়, কোন স্থানান্তর নয় এবং পুরোপুরি প্রত্যাহারও হবে না।

ইত্তেফাক/টিআর