ফোন চুরির অপবাদে শিশুকে অমানবিক নির্যাতন, চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২১, ২৩:৪০

বরিশালের আগৈলঝাড়ার মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে এক শিশুকে প্রকাশ্য বাজারে মারধর করে তার মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গৈলা বাজারে। সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই বাজারসহ উপজেলার সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়। 

নির্যাতীত শিশু ও তার মায়ের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের দরিদ্র ভ্যান চালক লাল মিয়া সরদারের শিশু পুত্র সজীব (১১)কে গৈলা বাজারের অলি টেলিকম থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় স্থানীয় শাহীন খানের ছেলে তাওহীদ খানের নেতৃত্বে স্থানীয় এনামুলসহ ৪/৫জন মিলে শনিবার বিকেলে গৈলা বাজারে প্রকাশ্যে মারধর করে হাফিজুল দাড়িয়ার দোকান থেকে কাঁচি এনে মাথার চুল কেটে দিয়েছে। শিশুর মা সানু বেগম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগে বলেন, দুপুরে তার ছেলে বাড়ি আসে। একটু পরে গৈলা অলি টেলকমের মালিক অলি বেপারী তাদের বাড়ি এসে সজীবকে বাজারে ডেকে নিয়ে যায়। তার পরে বিকেলে তার ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে জানায় যে একটি মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে তাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দিয়েছে। 

অলি টেলিকমের মালিক অলি বেপারী বলেন, আমি দোকানে না থাকা অবস্থায় অন্য একজনের উপস্থিতিতে সজীব আমার দোকান থেকে বিকাশ ও নগদ এজেন্টের দুটি সিম ভরা একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। দোকানেরর সিসি টিভি দেখে সজীবকে দেখে ফোন নেওয়া দেখে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে ফোন চুরির কথা স্বীকার করে। এক পর্যায়ে চুরি যাওয়া ফোনটি সজীব ফেরত দেয়। পরে শুনেছি যে বাজারে তার চুল কেটে দিয়েছে উৎসুক লোকজন। 

বাজার ব্যবসায়ি কমিটির সভাপতি সুশান্ত কর্মকার বলেন, তিনি গৈলা মনসা পূঁজার আয়োজনের জন্য মনসা বাড়িতে ছিলেন। বাজারে এসে একটি শিশুর চুল কাটার কথা শুনেছেন। তবে কে বা কারা ওই শিশুটির চুল কেটেছে তা তিনি জানেন না। গৈলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন টিটু বলেন, তিনি সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ঘটনা জানতেন না। লোক মুখে ঘটনা শুনে তিনি গৈলা বাজারে উপস্থিত হয়ে শিশুকে মারধর ও চুল কাটার কথা জানতে পারেন। অমানবিক এই এই ঘটনায় তিনি আইনগত বিচার দাবি করে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম এই রিপোর্ট লেখা নির্যাতীত ওই শিশুর বাড়ি অবস্থান করে তাওহিদ নামের একটি ছেলে শিশুটির চুল কটেছে জানিয়ে বলেন- শিশুটির মা ও বাবাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। থানায় বসে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত শুনে পরবর্তি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসজেড