সেনা সদস্য পরিচয়ে ৩য় বিয়ের পর ধরা পড়লো প্রতারক

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২১, ১৯:২৮

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় চরকলমী গ্রামের এক নারীকে (২০) সেনা সদস্য পরিচয় দিয়ে মুঠোফোনে সম্পর্ক গড়ে প্রতারণা করে বিয়ে করার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়লো প্রতারক সুমন উদ্দিন (৩৮) নামের যুবক। আটক সুমন এর আগেও দু’টি বিয়ে করেছে এবং তার ২ জন সন্তান রয়েছে।

বুধবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে প্রতারিত নারীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ প্রতারক সুমনকে আটক করে। সুমন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগোসাই গ্রামের দাই বাড়ীর গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। প্রতারিত নারী উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড চরকলমী গ্রামের মোতাহের হোসেনের মেয়ে। 

প্রতারিত নারী ও তার পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, এক বছর পূর্বে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রতারিত নারী তার মাকে চিকিৎসা করার জন্য ভর্তি করে। এসময় হাসপাতালে প্রতারক সুমনের সাথে তার পরিচয় হয়। নারীর কাছ থেকে তার মুঠোফোন নাম্বার চেয়ে নেয় প্রতারক সুমন। সেসময় থেকে প্রতারক সুমন অবিবাহিত এবং সেনাবাহিনীতে চাকুরী করে পরিচয় দিয়ে ওই নারীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে সম্পর্ক গভীর হলে পারিবারিক সম্মতিতে নারীর সাথে প্রতারক সুমনের গত বছর সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখে রেজিস্ট্রি কাবিননামা মূলে বিয়ে হয়। বিয়ের পর সুমন তার স্ত্রী প্রতারিত নারীকে নিয়ে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতে থাকে। 

মিরপুরে থাকাকালীন সময়ে প্রতারক সুমন তার স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে ২লাখ টাকা যৌতুক দাবীতে। এরমধ্যে প্রতারিত নারী জানতে পারে, তাকে বিয়ের আগেও প্রতারক সুমন ২টি বিয়ে করেছে এবং তার ২জন সন্তান রয়েছে। পরে কৌশলে ওই নারী কোম্পানীগঞ্জের চরকলমী গ্রামের তার পিত্রালয়ে বেড়ানোর কথা বলে চলে আসে। প্রতারক জামাই সুমনও শ্বশুর বাড়ীতে আসলে শ্বশুর বাড়ীর লোকজন পুলিশে সংবাদ দেয়। প্রতারিত নারীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ বিয়ে পাগল সুমনকে আটক করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রতারিত নারী বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল। 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সাইফুদ্দিন আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রতারক যুবক সুমনকে আটকের পর তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ইত্তেফাক/এসজেড