সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে সারারাত গাছে চড়ে ছিলেন আ. রহমান খান। নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পরে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার করা হয়। ৫৫ বছর বয়সি আ. রহমান গত বুধবার দুপুরে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ডুমুরিয়া ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনে মহিষ খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যান।
উপজেলার বগী গ্রামের আ. রহমান খান জানান, হারিয়ে যাওয়া একটি মহিষ খুঁজতে তিনিসহ কয়েক জন বুধবার দুপুরে বনের মধ্যে প্রবেশ করেন। মহিষটি খুঁজতে খুঁজতে এক সময় তিনি বনের মধ্যে পথ হারিয়ে ফেলেন। পরে অনেক রাতে হেঁটে মাদারগাছিয়া নামক স্থানে নদীর কিনার এসে পৌঁছান।
রাতে নদী পার হওয়া বিপজ্জনক ও রাতে বাঘের আক্রমণ হতে পারে এমন আশঙ্কায় নদী কিনারের একটি গাছে চড়ে বসেন। সারারাত গাছে থেকে বৃহস্পতিবার সকালে গাছ থেকে নেমে নদীর চর দিয়ে হাঁটতে থাকেন। এ সময় একটি জেলে নৌকা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বগী ওয়ার্ডের মেম্বার রিয়াদুল পঞ্চায়েত জানান, সুন্দরবনের ডুমুরিয়ার বনে বিচরণরত অনেক মহিষের মধ্যে বগী গ্রামের ছালাম চৌকিদারের একটি মহিষ বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসার জন্য আ. রহমানসহ আরো তিন/চার জন লোক বুধবার দুপুরে ডুমুরিয়ার বনে প্রবেশ করে। মহিষ খোঁজার এক পর্যায়ে আ. রহমান বনের মধ্যে হারিয়ে যান। সঙ্গীয় লোকজন তাকে না পেয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে ঘটনাটি সবাইকে জানায়। এরপর মেম্বার রিয়াদুল পঞ্চায়েত ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে পুনরায় বনের মধ্যে গিয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত খুঁজে তাকে পাননি। তাদের ধারণা হয়েছিল আ. রহমানকে বাঘে ধরে নিয়ে গেছে।
শরণখোলা থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান জানান, আ. রহমানের জামাতা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি আমাদের জানায়। পরে থানাপুলিশ ঘটনাটির অনুসন্ধান শুরু করে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. সামসুল আরেফিন জানান, বুধবার দুপুরে মহিষ খুঁজতে গিয়ে একজন লোক বনের ডুমুরিয়া এলাকায় নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি তার বাড়িতে ফিরেছেন বলে শুনেছি।
ইত্তেফাক/এএএম
