তাড়াশে বেশিরভাগ কবরস্থান অরক্ষিত

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২১, ১১:১২

প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে কবরস্থানের সুরক্ষা প্রাচীর ও গেট নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশের ২৫৬ গ্রামের অধিকাংশ কবরস্থান অরক্ষিত রয়ে গেছে।

শুক্রবার (২০) আগস্ট সরজমিনে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিনা গ্রামের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দেখা গেছে, কবরস্থানের একপাশে প্রাচীর রয়েছে। অন্য দিকগুলো উন্মুক্ত। এ কবরস্থানের গেটের অবস্থাও ভঙ্গুর। সেখানে দুপুর বেলায় গরু ছাগল ঘাস খাচ্ছে ও ঘুরে বেড়াচ্ছে।

পৌর এলাকার ভাদস কেন্দ্রীয় কবরস্থান [ছবি: ইত্তেফাক]

কবরস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল বারিক বলেন, অনুদানের টাকায় বেশ কয়েক বছর আগে বড় মাঝদক্ষিনা কবরস্থানের একপাশে প্রাচীর ও একটি গেট নির্মাণ করা হয়েছিলো। এরপর টাকার অভাবে সে কাজ এগোয়নি। কারণ বড় মাঝদক্ষিনা কবরস্থানের কোনো আয়ের উৎস নেই। আবার যদি অনুদান পাওয়া যায় বা কেউ টাকা দিয়ে সহায়তা করে তাহলেই বাকি কাজ করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, দেশীগ্রাম ইউনিয়নের শাকমাল গ্রামের কবরস্থান, উত্তর শ্যামপুর কবরস্থান, দেওরা ইল্লিপাড়া কবরস্থান, পশ্চিম পাইকরা কবরস্থান ও কৃষœপুর কবরস্থানসহ অধিকাংশই বিস্তীর্ণ মাঠের মধ্যে ও পুকুরের পাড়ে। বিশেষ করে মাঠের মধ্যের কবরস্থানের চারপাশের জমিতে যখন ফসল না থাকে, তখন কবরস্থানগুলো জেনো গোচারণ ভ‚মিতে পরিণত হয়। কারণ এসব কবরস্থানে প্রাচীর ও গেট কোনটাই নেই।

তালম ইউনিয়নের গোন্তা কেন্দ্রীয় কবরস্থান পরিচালনা কমিটির হিসাবরক্ষক মোতালেব হোসেন বলেন, গোন্তা গ্রামের কেন্দ্রীয় কবরস্থান সড়কের সাথে। কোনো পাশেই প্রাচীর ছিলো না। অনেক পথচারী মূত্র ত্যাগ করতে বসে পড়েন। উপায়ন্তর না দেখে গ্রামের মাদ্রাসার তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নিয়ে কবরস্থানের সড়কের পাশ দিয়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু বাকি দিকগুলো উন্মুক্তই রয়ে গেছে। ফলে কবরস্থানের ভেতর অবাধে গরু ছাগল ঢুকে পড়ে।

জানা গেছে, তালম ইউনিয়নের গুল্টা দোগাড়িয়া কবরস্থান, গুল্টা গোলাপুর কবরস্থান, দেওঘর কবরস্থান, চৌড়া কবরস্থান, লাউতা কবরস্থানেও প্রাচীর গেট কিছুই নেই।

সরজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কবরস্থানের জায়গা আগাছায় ভরে গেছে। কবর দেওয়ার জন্য সামান্য জায়গাটুকো ফাঁকা নেই। সর্বোপরি তাড়াশের ২৫৬ গ্রামের অধিকাংশ কবরস্থান অনুরূপভাবে অরক্ষিত।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সলঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আজিজ দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আমার সংসদীয় আসনের ৪০টি কবরস্থান উন্নয়নের জন্য তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনও অর্থ ছাড় হয়নি। তাছাড়া টিআর ও কাবিখার টাকায় কয়েকটি কবরস্থানের উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে।

ইত্তেফাক/এমআর